


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেমিকের সঙ্গে স্কুটার চালানো শিখতে এসেছিলেন তরুণী। সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ শেষবার তাঁদের দেখা গিয়েছিল কলকাতার আনন্দপুরে, চীনা মন্দিরের কাছে। তীব্র বচসা চলছিল ওই যুগলের মধ্যে। এরপর থেকেই তাঁরা নিখোঁজ। শুধু চীনা মন্দিরের কাছেই খালের পাশে উদ্ধার হয় স্কুটারটি। এই নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মঙ্গলবার সেই খালের জল থেকেই উদ্ধার হল যুগলের নিথর দেহ। সোমবার রাত থেকেই খালের জলে ডুবুরি নামানো হয়। মাঝে কয়েক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে ফের শুরু হয়েছিল তল্লাশি। শেষপর্যন্ত ওই খাল থেকেই মিলল যুগলের নিথর দেহ। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রেমিক রোহিত আগরওয়ালের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রেমিকা রণিতা বৈদ্যের দেহ পাওয়া যায় বিকেলে। যুগলের মধ্যে বচসার পরই এমন অঘটনে দানা বেধেছে রহস্য। প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে খুন নাকি আত্মহত্যা, তদন্ত করে দেখছে পুলিস।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, রণিতার বাড়ি আনন্দপুর এলাকার মার্টিন পাড়ায়। তাঁর প্রেমিক রোহিত পঞ্চান্ন গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় একটি সংস্থায় ডেলিভারি কর্মী। দু’জনের মধ্যে পরিচয় ছিল অনেকদিন ধরেই। প্রণয় ঘটিত সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। তদন্তকারীরা জেনেছেন, মাস খানেক আগে রণিতাকে স্কুটার কিনে দিয়েছিলেন দাদা। প্রতিদিন রাতে চীনা মন্দিরের কাছে ফাঁকা রাস্তায় তাঁকে স্কুটার চালানো শেখাতেন প্রেমিক রোহিত। স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ দু’জনকে ওই এলাকায় দেখেছিলেন। স্কুটারে বসে ছিলেন ওই তরুণী। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল। এই সময় আচমকাই রণিতা স্কুটার থেকে নেমে খালের দিকে দৌড় লাগান। পিছনে ধাওয়া করে রোহিত। কিছুক্ষণ পর খালে কারও ঝাঁপ দেওয়ার শব্দ শুনতে পান ওই বৃদ্ধা। তাঁর বক্তব্য যাচাই করতে এলাকায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে থানা। দেখা যায়, ওই বৃদ্ধার বয়ানের সঙ্গে ফুটেজের মিল রয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থল থেকে স্কুটারটি উদ্ধার করে পুলিস। রাতেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ডেকে পাঠিয়ে খালে নামানো হয় ডুবুরি। যদিও প্রাথমিক তল্লাশিতে কিছুই পাওয়া যায়নি। স্কুটারের নম্বরের সূত্র ধরে রণিতাকে চিহ্নিত করে পুলিস। তাঁর বাড়ি গিয়ে পুলিস জানতে পারে প্রেমিক রোহিতের কথা। এদিন সকাল দশটা থেকে ফের খালে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। বেলায় রোহিতের দেহ উদ্ধার হতে ডেকে আনা হয় পরিবারের সদস্যদের। তাঁরা দেহ শনাক্ত করে। মৃতের প্যান্টের পকেট থেকে স্কুটারের চাবি মেলে। পুলিস নিশ্চিত হয়, এটি তরুণীর বাইকের চাবি। এরপর বিকেলে রণিতার দেহ উদ্ধারের পর তা শনাক্ত করে পরিবার।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ইদানীং ওই যুগলের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। ছোটখাট বিষয় নিয়ে গোলমালে জড়িয়ে পড়ছিলেন দু’জনে। সূত্রের খবর, পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিয়ে করতে চাইছিলেন রণিতা। রোহিত তাতে রাজি ছিলেন না। সেই নিয়ে প্রায়ই তাঁদের ঝগড়া হতো। সোমবার রাতেও এই নিয়ে আবার দুজনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। তার পরিণতিরই কি ঘটনা? রহস্য বাড়ছে!