নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হকার উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্র যাদবপুর। রবিবার গভীর রাতে বেধড়ক লাঠি চালিয়ে যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ করল রেল কর্তৃপক্ষ। আটক করা হয় সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ একাধিক আন্দোলনকারীকে। হকারদের চোখের জল ও হাহাকার উপেক্ষা করেই বুলডোজার রাজের সাক্ষী থাকল যাদবপুর। একাধিক বেআইনি নির্মাণের পাশাপাশি চোখের সামনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু দোকান। রুজি-রুটির শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হল বহু পরিবার।
এদিন সন্ধ্যা থেকেই ফের হকার উচ্ছেদ নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া ২১২ বাসস্ট্যান্ডে রেল কর্তৃপক্ষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। রেল পুলিশের পাশাপাশি বিশাল সংখ্যায় কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হাজির হন। আনা হয় বেশ কয়েকটি বুলডোজার। লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা। খবর পেয়ে রাতেই স্টেশনে হাজির হন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্য, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। হকারদের নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় ধরে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানো হয়। মানব বন্ধন করে বুলডোজার ঢোকার রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সক্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। রাত একটা নাগাদ সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে কার্যত পাঁজাকোলা করে প্রিজন ভ্যানে তুলে দেওয়া হয়। ওই সময় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। মাথায় চোট পেয়েছেন সুজন চক্রবর্তী ও অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্য। জখম হন আরও পাঁচজন। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে একের পর এক বুলডোজার ঢোকানো হয়। এরপর শুরু হয় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ। আটক সৃজন বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের লাঠির আঘাতে অনেকেই জখম হয়েছেন। আমাদের আটকে প্রতিরোধের রাস্তা থেকে সরানো যাবে না। লড়াই চলবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২ তারিখ রাতে যাদবপুরে একইভাবে হকার উচ্ছেদ করতে এসেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। সেবারও বাম,কংগ্রেস ও সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের যৌথ আন্দোলনে থমকে গিয়েছিল বুলডোজার। অভিযান শুরুর আগেই ফিরতে বাধ্য হয়েছি রেল কর্তৃপক্ষ। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, সেবার ১৯৮৮ সালের হাইকোর্টের অর্ডার দেখিয়ে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। রেল কর্তৃপক্ষ ওই অর্ডারের সার্টিফায়েড কপি চেয়েছিল। তাই গ্রীষ্মের ছুটির শেষে হাইকোর্ট খোলার দিন থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। রেল কর্তৃপক্ষ তাতে সায় দিয়েছিল। কিন্তু এদিন সন্ধ্যা থেকে ফের বিশাল পুলিশ বাহিনী বুলডোজার নিয়ে হাজির হতেই আসরে নামে বাম নেতৃত্ব। হকারদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। কিন্তু রাত ১টার পর থেকে পুলিশ আগ্রাসী ভূমিকা নিতে শুরু করে। বেধড়ক লাঠি চালানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়। কার্যত ফাঁকা করে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। এরপরেই অবাধে চালানো হয় বুলডোজার।