নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভাড়াটিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আর সুদ কারবারিদের চাপেই কি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মা ও ছেলে। পুলিসি তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন ভাড়াটিয়া নিলম বার্নওয়াল। সোমবার রাতে আসানসোল দক্ষিণ থানার রাশডাঙায় পেল্লাই জাহাজ বাড়ির দরজা ভেঙে পুলিস উদ্ধার করে বাড়ির মালকিন যুথিকা দাস ও ছেলে অরবিন্দ দাসকে। ওই ঘর থেকেই উদ্ধার হয় তাদের তিন পোষ্য কুকুরের মৃতদেহ। আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক যুথিকাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অরবিন্দবাবু আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রসঙ্গত, দেনার দায়ে কার্বোলিক অ্যাসিড খাইয়ে পোষ্যদের মারা হয়। তারপর হাতের শিরা কেটে কার্বোলিক অ্যাসিড খায় মা ও ছেলে।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, ভাড়াটিয়া নিলম বার্নওয়ালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল অরবিন্দবাবু। যার জেরে পুরো বাড়িতে ছড়ি ঘোরাতেন তিনি। অন্যদিকে ওই ভাড়াটিয়ার দাবি, বাড়ির মালিক তার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। বাড়িটি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। এই আর্থিক সঙ্কট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি হতে থাকে। ঘটনার দিন সকালেও ভাড়াটিয়া ও বাড়ি মালিকদের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয় বলে প্রতিবেশীরা পুলিসকে জানিয়েছে। এরপরই পুলিস ওই ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, মোট চারজনের নামে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সুদ কারবারিও রয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, কারবারিরা অরবিন্দকে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন অরবিন্দবাবু। কিন্তু, ব্যাপক লোকসান হয়। এরপরই পাওনাদাররা টাকা ফেরতের জন্য বাড়িতে এসে চাপ দিতে থাকে। তার জেরেই এই ঘটনা বলে পুলিস জানতে পেরেছে।