সারাক্ষণই নানারকম এক্সপেরিমেন্ট চলছে জিভে জল আনা এই ডেজার্টটি নিয়ে। নাম তার আইসক্রিম। আজ প্যাপরিকা গুর্মে রেস্তরাঁর শেফ তিন স্বাদের তিনটি আইসক্রিমের সহজ রেসিপি জানালেন।
সারাক্ষণই নানারকম এক্সপেরিমেন্ট চলছে জিভে জল আনা এই ডেজার্টটি নিয়ে। নাম তার আইসক্রিম। আজ প্যাপরিকা গুর্মে রেস্তরাঁর শেফ তিন স্বাদের তিনটি আইসক্রিমের সহজ রেসিপি জানালেন।
আইসক্রিমের আবিষ্কার কবে হল তা সঠিক বলা যায় না। তবে তথ্য বলছে, যিশুখ্রিস্টের জন্মের বহু বছর আগে চীন দেশে যখন তাং রাজত্ব চলছিল তখন নাকি দুধ আর চাল একসঙ্গে মিশিয়ে তা রান্না করা হতো। তারপর তাতে চিনি মেশানো হতো। এবং তারপর তা টিনের পাত্রে রেখে মাটির তলায় পুঁতে দেওয়া হতো। প্রায় সপ্তাহ খানেক এভাবে রাখার পর বের করলে দেখা যায়, দুধ আর চালের মিশ্রণ জমে গিয়েছে। ঠান্ডা জমাট বাঁধা মিষ্টির সেই প্রথম প্রচলন ঘটে। এরপর পারসিরা যিশুর জন্মের ৫০০ বছর আগে এই দুধ, চাল আর চিনির মিশ্রণে প্রথম জাফরান মেশানো শুরু করে। হলুদ রং ধরলে সেই মিশ্রণ টিনের পাত্রে রেখে নুনের কোটিং দিয়ে জমতে দেওয়া হতো ঠান্ডা কোনও জায়গায়। জাফরান দেওয়া এই ঠান্ডা জমানো মিষ্টি জনপ্রিয় হলে তার সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি মেশানো শুরু হল। সেই থেকেই নাকি আইসক্রিমের সঙ্গে ফ্লেভার মেশানোর চল শুরু হয়। এই বিষয়ে পেপ্রিকার কর্ণধার জানান, ‘আইসক্রিমে যত রকম ফ্লেভার মেশানো হয়েছে, তার সঙ্গে যত বেশি ফিউশন করা হয়েছে তা নাকি খুব কম খাবারেই দেখা যায়।’ যত দিন গিয়েছে দুধ ঘন করা, তার মালাই দিয়ে ক্রিম বানানো ইত্যাদি নানারকম উন্নতি হয়েছে জনপ্রিয় এই ডেজার্টে। এরপর চকোলেট চাঙ্ক, লিক্যুইড চকোলেট, ফলের টুকরো, বাদাম ইত্যাদি মিশিয়ে বিভিন্ন নামে নানারকম আইসক্রিম তৈরি হয়েছে। আজও এই ধারা অব্যাহত। সময়ের সঙ্গে এই ডেজার্টের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বই কমেনি।
নিউটেলা আইসক্রিম
উপকরণ: ঠান্ডা হেভি ক্রিম ১ কাপ, ঠান্ডা হোল মিল্ক ১ কাপ, নিউটেলা কাপ, চিনি কাপ, ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট ১ চা চামচ, নুন চা চামচ, হেজেলনাট বা ডার্ক চকোলেট চিপস (ঐচ্ছিক)।
প্রণালী: একটা বড় বোলে হেভি ক্রিম ফেটিয়ে নিন। হ্যান্ড ব্লেন্ডারের সাহায্যে ফেটাবেন যাতে সফট পিক তৈরি হয়। যখন দেখবেন বাটিটা উল্টে দিলেও ক্রিম পড়ে যাচ্ছে না তখনই বুঝবেন সফট পিক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এবার একটা ভিন্ন পাত্রে নিউটেলা, দুধ, চিনি, নুন, ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার হেভি ক্রিম নিউটেলার মিশ্রণের সঙ্গে মেশান। তারপর তা হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে ফেটিয়ে নিন। এবার এই পুরো মিশ্রণটা একটা এয়ারটাইট কন্টেনারের মধ্যে ভরে মুখ বন্ধ করে দিন। ছ’ঘণ্টা ওইভাবে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। এবার তা ডিপ ফ্রিজ থেকে বের করে নিন। তারপর একটা আইসক্রিম বোলে স্কুপ করে তুলে নিন। উপর থেকে হেজেলনাট ও চকো চিপস দিয়ে সাজিয়ে দিন। তারও উপরে নিউটেলা ফেটিয়ে নিয়ে ছড়িয়ে দিন। এইভাবে পরিবেশন করুন।
অ্যাপেল ক্রাম্বল আইসক্রিম
উপকরণ: হেভি ক্রিম ২ কাপ, হোল মিল্ক ১ কাপ, ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট ১ চা চামচ, চিনি কাপ, দারচিনি গুঁড়ো চা চামচ, জায়ফল গুঁড়ো ১ চিমটে (ঐচ্ছিক)
অ্যাপেল ফিলিংয়ের জন্য: আপেল (খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে কাটা) ২টো, মাখন ২ টেবিল চামচ, ব্রাউন সুগার ২ টেবিল চামচ, দারচিনির গুঁড়ো চা চামচ, নুন ১ চিমটে।
ক্রাম্বল টপিংয়ের জন্য: ময়দা কাপ, রোলড ওটস কাপ, ব্রাউন সুগার কাপ, দারচিনি চা চামচ, ঠান্ডা মাখনের কিউব কাপ।
প্রণালী:
আপেলগুলো রাঁধার জন্য: একটা মাঝারি আকারের প্যানে ২ টেবিল চামচ মাখন গলিয়ে নিন। তাতে আপেলের টুকরো, ব্রাউন সুগার, দারচিনি গুঁড়ো এবং ১ চিমটে নুন দিয়ে ফোটান। আপেল মোটামুটি নরম হলে আর তাতে সোনালি রং ধরলে আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।
ক্রাম্বল বানানোর জন্য: আভেন ১৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে প্রি-হিট করে নিন। একটা বোলে ময়দা, ওটস, ব্রাউন সুগার ও দারচিনি মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা মাখনের টুকরো আঙুল দিয়ে গুঁড়িয়ে নিন। এবার তা ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে নিন। এই ক্রাম্বল বেকিং ট্রেতে ছড়িয়ে বেক করে নিন। দশ থেকে বারো মিনিট। সোনালি রং ধরলে আভেন থেকে বের করে নিন। ক্রাম্বল ঠান্ডা হতে দিন। এবার হেভি ক্রিম হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে ফেটিয়ে সফট পিক বানিয়ে নিন। অন্য পাত্রে দুধ, কনডেন্সড মিল্ক, ভ্যানিলা, জায়ফল গুঁড়ো ও দারচিনি মিশিয়ে নিন। তাতে হেভি ক্রিম মিশিয়ে আবারও ফেটিয়ে নিন। এই মিশ্রণে অ্যাপেল ক্রাম্বল মেশান। এবার তার সঙ্গে অ্যাপেল ফিলিং মিশিয়ে দিন। একটা এয়ারটাইট পাত্রে ভরে মুখ আটকে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন ৬ ঘণ্টা। বের করে স্কুপ করে সাজিয়ে নিন ও উপর থেকে একটু অ্যাপেল ক্রাম্বল আর একটা আপেলের টুকরো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ম্যাঙ্গো আইসক্রিম
উপকরণ: হেভি ক্রিম ১ কাপ, ম্যাঙ্গো পিউরি ১ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ১ ক্যান, হোল মিল্ক কাপ।
প্রণালী: ব্লেন্ডারের সাহায্যে ফেটিয়ে হেভি ক্রিমে সফট পিক বানিয়ে নিন। তা ডিপ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা হতে দিন। এবার একটা অন্য পাত্রে দুধ, কনডেন্সড মিল্ক ও আমের পিউরি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ব্লেন্ডারের সাহায্যে এই মিশ্রণ মেশালে তা ভালো করে একে অপরের সঙ্গে মিশে যাবে। এবার এই মিশ্রণ হেভি ক্রিমের সঙ্গে স্প্যাচুলার সাহায্যে মিশিয়ে নিন। তারপর তা একটা এয়ারটাইট পাত্রে ভরে ভালো করে মুখ আটকে ডিপ ফ্রিজে ৬ ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর বের করে স্কুপ করে সাজিয়ে আমের কুচি সহযোগে পরিবেশন করুন।