নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া পুরসভার এক মহিলা অস্থায়ী কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে। মৃতার নাম হীরা সাধুখাঁ। বছর চুয়াল্লিশের ওই মহিলা কর্মী তোলাফটক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। নির্মলসাথী হিসাবে কর্মরত ওই মহিলা সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। অভাবের সংসারে চিকিৎসা নিয়ে যেমন টানাপোড়েন ছিল, তেমনই বহুমাসের মজুরি বকেয়া থাকায় অনটনে ভুগছিলেন। সেকারণেই তিনি চিকিৎসা করাতে পারেননি। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে চুঁচুড়া পুরসভার কর্মচারীদের যুক্তমঞ্চ। এমনকি, মজুরির টাকা বকেয়া থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। যদিও ওই দাবির সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষ বা রাজ্যের শাসকদলের নেতৃত্ব একমত নয়।
চুঁচুড়া পুরসভার কর্মী সংগঠনের যুক্তমঞ্চের নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, হীরাদেবী এই কাজ করেই সংসার চালাতেন। কিন্তু পুরসভা তাঁর পাঁচ মাসের টাকা বকেয়া রেখেছে। একজন গরিব মানুষ কতদিন এই পরিস্থিতিতে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন? অভাবের কারণেই সঠিক চিকিৎসা, খাওয়াদাওয়া কিছুই জোটেনি হীরাদেবীর। তার উপরে কাজে না এলে বাদ যাওয়ার খাঁড়া মাথায় ঝুলছিল। জীবন বাজি রেখে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন এক শ্রমিক। আমরা হতাশ। স্থানীয় কাউন্সিলার তৃণমূলের দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, পাঁচ মাসের টাকা বকেয়া থাকাটা বিস্ময়কর। আমাদের বোর্ড থাকাকালীনও টাকা দিতে দেরি হয়েছে। কিন্তু এত মাস বকেয়া কখনও ছিল না। তিনি অভাব ও অনটনকেই হীরাদেবীর মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন। যদিও বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু সেই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা করার চেষ্টা কাঙ্খিত নয়। পুরসভার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ও মজুরি নিয়ে জটিলতার জন্য পূর্বতন সরকারই দায়ী। সেটা কর্মী থেকে নাগরিক, সকলেই জানেন। এনিয়ে পুর কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
চুঁচুড়া পুরসভার কর্মীরা সম্প্রতি মজুরির টাকা না পেয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তা তুলে নেন। অভিযোগ, তার পরেও রবিবার পর্যন্ত কেউই বকেয়া মজুরি পাননি। এই পরিস্থিতিতে এই মৃত্যুর ঘটনা শ্রমিক অসন্তোষে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মজুরি না পেয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিলেন হীরাদেবী। তাঁর স্বামী লক্ষ্মণ সাধুখাঁ দিনমজুর। দুই ছেলে কলেজ পড়ুয়া। গত কয়েকদিন ধরেই অসুস্থতা নিয়েই কাজ করছিলেন হীরাদেবী। রবিবার ভোররাতে আচমকা তাঁর অসুস্থতা বেড়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়েই শ্রমিকরা তাঁর বাড়িতে ভিড় যান। তাঁর মৃত্যু বকেয়া মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।