Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেক জালিয়াতি কাণ্ডে বর্ধমান পুরসভার অস্থায়ী কর্মীর জামিন

বর্ধমান পুরসভার চেক ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের হিঙ্গনঘাটে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা থেকে ৪৮ লক্ষাধিক টাকা তুলে নেওয়ার মামলায় ধৃত সমীররঞ্জন কৃষ্ণদাস মুখোপাধ্যায়ের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করল মহারাষ্ট্রের আদালত।

চেক জালিয়াতি কাণ্ডে বর্ধমান  পুরসভার অস্থায়ী কর্মীর জামিন
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান পুরসভার চেক ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের হিঙ্গনঘাটে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা থেকে ৪৮ লক্ষাধিক টাকা তুলে নেওয়ার মামলায় ধৃত সমীররঞ্জন কৃষ্ণদাস মুখোপাধ্যায়ের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করল মহারাষ্ট্রের আদালত। বিচার বিভাগীয় হেপাজতে থাকা সমীররঞ্জনকে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের আইনজীবী জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ধৃত অনেকদিন জেলে রয়েছে। তাছাড়া মৃত্যুদণ্ডের মতো কোনও অপরাধ সে করেনি। জামিন তার প্রাপ্য। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, জাল নথিপত্র তৈরি করে ব্যাঙ্কের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা সামাজিক অপরাধও। দু’পক্ষের সওয়াল শুনে এক লক্ষ টাকার বন্ড এবং চার্জশিট পেশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরার শর্তে ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম। 

Advertisement

ধৃতের এক আইনজীবী পার্থ হাটি বলেন, একটি মামলায় শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর হয়েছে। অপর একটি মামলায় সে জেলে রয়েছে। সেই মামলায় জামিনের জন্য জেলা ও দায়রা আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।
আর্থিক অপরাধ দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পুরসভার চেক ব্যবহার করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৮ লক্ষ ২১ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। তারপর আরও একটি চেকে টাকা তোলা হয়। দিন দুয়েক পর ৯৭ লক্ষ ৫২ হাজার টাকার একটি চেক জমা পড়ে। ব্যাঙ্ক থেকে পুরসভার কাছে চেক জমা পড়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পুরসভার দাবি, যেসব নম্বরের চেক ব্যবহার করে টাকা তোলা হয়েছে বা তোলার জন্য জমা পড়েছে, সেই সবক’টি চেকই পুরসভার হেপাজতে রয়েছে। চেক গ্রহণ করে পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে বলে পুরসভার দাবি। পুরসভা ব্যাঙ্কের কাছে টাকা ফেরতের জন্য চিঠি দেয়। ব্যাঙ্ক পুরসভাকে টাকা ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু, ব্যাঙ্কের তরফে মনীশ উত্তম জিগরল হিঙ্গনঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে জাল নথিপত্র তৈরি করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারায় কেস রুজু করে থানা। 
তদন্তে নেমে পুলিশ বিনোদ নামদেব রাও মাতে, তুষার মূর্তিধর হারনে, ভূষণ মাহেন্দ্র পান্দ্রে ও অনুপ অজিত কুমার কোঠারিকে গ্রেফতার করে। তারা জামিনে মুক্ত রয়েছে। তদন্তে পুরসভার অস্থায়ী কর্মী সমীররঞ্জনের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়ে মহারাষ্ট্রে ডেকে পাঠানো হয়। গ্রেফতার এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করে অভিযুক্ত। সেই আবেদন জেলা ও দায়রা আদালত খারিজ করে দেয়। এরপর তাকে বর্ধমান শহরের ইছলাবাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আর্থিক অপরাধ দমন শাখা। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অপর একটি মামলাতেও তাকে গ্রেফতার করে আর্থিক অপরাধ দমন শাখা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ