Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরে ফের টার্গেট মন্দির, চেতলায় গেট ভেঙে প্রণামী বাক্স থেকে চুরি, নেতাজিনগর কাণ্ডের সঙ্গে মিল, তদন্তে পুলিশ

নেতাজিনগরের লায়েলকার পর শহরে ফের দুষ্কৃতীদের নজরে মন্দিরের প্রণামী বাক্স। এবার ঘটনাস্থল চেতলা লক গেটের কাছে একটি মনসা মন্দির।

শহরে ফের টার্গেট মন্দির, চেতলায় গেট ভেঙে প্রণামী বাক্স থেকে চুরি, নেতাজিনগর কাণ্ডের সঙ্গে মিল,  তদন্তে পুলিশ
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজিনগরের লায়েলকার পর শহরে ফের দুষ্কৃতীদের নজরে মন্দিরের প্রণামী বাক্স। এবার ঘটনাস্থল চেতলা লক গেটের কাছে একটি মনসা মন্দির। লায়েলকা হনুমান মন্দিরের মতোই চেতলায় কোলাপসিবল ভেঙে প্রণামী বাক্সের সব টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতী। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে চেতলা থানা এলাকায়। স্থানীয়রাই পুলিশে খবর দেন। লালবাজার জানিয়েছে, ‘তদন্তে নেমেছে চেতলা থানা। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে।’

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে মন্দিরের দরজা খুলতে যান স্থানীয় এক মহিলা। তাঁর কাছেই চাবি থাকে। মন্দিরের দেখাশোনা, ধোয়া-মোছা করেন ওই মহিলা। সকালে মন্দিরের দরজায় জল দিতে গিয়ে তিনি দেখেন, কোলাপসিবল গেট হাট করে খোলা। কাঠের প্রণামী বাক্সের তালা অটুট। কিন্তু, ভাঙা বাক্সের সামনের কাচ গায়েব। ভিতর থেকে খোয়া গিয়েছে যাবতীয় নগদ। স্থানীয় বাসিন্দা তথা মন্দির কমিটির সদস্যদের দাবি, প্রণামী বাক্সে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল। হারু মণ্ডল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, প্রণামী বাক্স থেকে টাকা খোয়া গিয়েছে। কিন্তু, বিগ্রহের সোনার গয়না সহ দামি বাসনপত্র চুরি যায়নি। মন্দির থেকে চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রাই চেতলা থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মন্দিরে কোনো ক্যামেরা নেই। স্থানীয় দু’টি দোকানে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মন্দিরে সিসি ক্যামেরা নেই বলেই মনসা মন্দিরকে টার্গেট করে দুষ্কৃতী। একাধিক প্রশ্ন উঠছে এই ঘটনায়।  একইসঙ্গে, লায়েলকা মন্দিরের হনুমান মন্দিরের চুরির ধরনের সঙ্গে মিল পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ১৩ ফেব্রুয়ারি নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করে ওই মন্দির কমিটি। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তাতে অভিযোগকারীরা জানান, হনুমান মন্দিরের বিগ্রহের গয়নাও যথাস্থানে ছিল। শুধু প্রণামী বাক্সের নগদ চুরি যায়। চেতলাতেও একইভাবে চুরি হয়েছে মনসা মন্দির থেকে। দু’টি ক্ষেত্রেই মন্দিরের ভিতরে নেই কোনো সিসি ক্যামেরা। লালবাজার সূত্রের খবর, দু’টি ঘটনার উপরেই গোয়েন্দা বিভাগের নজর রয়েছে। দু’টি মন্দিরে চুরির ক্ষেত্রে একই চক্র কাজ করছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। কেন মন্দিরের সোনার গয়না অটুট? গোয়েন্দাদের অনুমান, চোরাই সোনার গয়না খোলা বাজারে বিক্রি করতে গেলে পুলিশি নজরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সোনার লোভ সংবরণ করে প্রণামী বাক্সের নগদকেই টার্গেট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। 

সম্পর্কিত সংবাদ