পাটনা: শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে বিহারের ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর খসড়া তালিকা। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম! এক ধাক্কায় এত ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভপ্রকাশ করেছে বিরোধীরা। আর তার মধ্যেই শনিবার বিহারের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব দাবি করেছেন, খসড়া তালিকা থেকে তাঁর নামও বাদ পড়েছে। এদিন পাটনায় সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র। সেখানে তিনি তাঁর ভোটার কার্ডের নম্বর সকলকে দেখান। সেই নম্বর দিয়ে নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপে সার্চ করেন তিনি। কিন্তু বারবার দেখা যায়, অ্যাপে ‘নো রেকর্ডস ফাউন্ড’ বা কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তেজস্বী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমার নামই ভোটার লিস্টে নেই। তাহলে কীভাবে আমি নির্বাচনে অংশ নেব?’
তাঁর এই অভিযোগের পর ফের একপ্রস্থ বিতর্ক শুরু হতেই তড়িঘড়ি জবাব দিতে আসরে নামে নির্বাচন কমিশন। পাল্টা তালিকা প্রকাশ করে তারা জানায়, পাটনার ভেটেরিনারি কলেজের একটি বুথে তেজস্বীর নাম রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ‘তেজস্বী যাদব দাবি করছেন, তাঁর নাম ভোটার তালিকার নেই। কিন্তু খসড়া তালিকায় ৪১৬ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার দাবি একেবারেই মিথ্যা।’ যদিও তেজস্বী যে এপিক নম্বর দেখিয়েছিলেন, আর কমিশনের দেওয়া তালিকায় তেজস্বীর এপিক নম্বর আলাদা। কমিশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, তেজস্বীর দাবি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। সম্ভবত তেজস্বীর দুটি ভোটার কার্ড রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে। যদি তেজস্বীর নামে দুটি ভোটার কার্ড থাকে, তাহলে প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হতে পারে।
এদিন তেজস্বী অভিযোগ করেন, প্রত্যেক বিধানসভা আসন থেকে গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই ৬৫ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। যা মোট ভোটারের প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। কমিশন যখন এসআইআর নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, তখন জানিয়েছিল যে, বহু মানুষ অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা মারা গিয়েছেন। অনেকের আলাদা আলাদা নামে কার্ড রয়েছে। কিন্তু কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ভোটারদের নাম, এপিক নম্বর বা বুথ নম্বরের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে কাদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে, বোঝাই যাচ্ছে না। তেজস্বীর প্রশ্ন, ‘যে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের কি নোটিস দেওয়া হয়েছে? তাঁরা কি এই নিয়ে আর আবেদন করতে পারবেন?