তেহরান: দিনে শান্তির বাণী, রাতে হামলার হুঁশিয়ারি। ক্ষণে ক্ষণে মতবদল। বিস্ফোরক ঘোষণা যেন রোজের অভ্যাস। এহেন কারও সঙ্গে পেরে ওঠার সাধ্যি সাধারণ কারও হবে না, তা বলাই বাহুল্য। আর ওই চর্চিত ব্যক্তির নাম যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়? তাহলে মনোবিদেদের সাহায্য ছাড়া সফল হওয়া তো আরও কঠিন। অন্তত ইরানের তাই মনে হয়েছে। তেহরানের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যে দীর্ঘ আলোচনা চলেছে, তাতে দু’জন অভিজ্ঞ মনোবিদের পরামর্শ নিতে হয়েছে তাদের।
১০৮ দিন পর শেষমেশ বন্ধ হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ। খুলে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালীও। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে ইরান ও আমেরিকা। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে এই চুক্তি। তবে এই পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। ইরানের দাবি, দুই অভিজ্ঞ মনোবিদকে আলোচনাকারী দলের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল, যাতে তাঁরা ট্রাম্পের মানসিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী কৌশল তৈরি করতে পারেন। ইরানের এক আধিকারিকের দাবি, এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে প্রথম দফার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর থেকেই এই বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় যুক্ত হন। তাঁদের পরামর্শ মেনে তৈরি বার্তার ফলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলেই সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কে তদারক করবে, কীভাবে চুক্তি মানা হচ্ছে তা যাচাই হবে, কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অপসারণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ১৯ জুন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের আলোচনার মধ্যে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, শীঘ্রই চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশ করা হবে। ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্যই হল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।