সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দুই পোষ্যকে নিয়ে তারাপীঠ এলাকার দামি রিসর্টে আত্মগোপন করেছিলেন। রুম থেকে বেরই হতেন না। পাছে তার চালচলন অন্যের কাছে সন্দেহ হয়! কিন্তু, আপনজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়েই ফেঁসে গেলেন সন্দেশখালির জালনোট কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তিস্তা সেন। তাঁর টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে রামপুরহাট থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে রিসর্টে হাজির হয় সন্দেশখালির পুলিস। রুম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বছর চল্লিশের তিস্তাকে। বাড়ি রাজারহাটে।
রিসর্টের কর্মীরা জানান, দিন পনেরো আগে স্বামীকে নিয়ে এখানে উঠেছিলেন তিস্তা। দু’দিন থাকার পর ওঁরা চলে যান। গত শনিবার সকাল সকাল তিস্তা একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে একা ফের রিসর্টে আসেন। সঙ্গে দু’টি কুকুর ও একটি লাগেজ। একা থাকার কারণে প্রথমে রুম ভাড়া দিতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। পরে স্বামীও আসছে বলায় রুম দেওয়া হয়। কিন্তু সেই যা রুমে ঢুকেছিলেন তারপর আর বের হননি। এমনকি খাবার জন্য আলাদা রেস্টুরেন্ট থাকলেও তিনি রুমেই নিজের এবং কুকুরের জন্য খাবার নিতেন।
পুলিস সূত্রে খবর, রুমে বসে কয়েকবার নিজেদের লোককে ফোন করেন তিস্তা। তাঁর ফোন ট্র্যাক করা ছিল। সন্দেশখালির পুলিস তাঁর খোঁজ পেতেই রবিবার রাতে রামপুরহাট থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে সেই রিসর্টে হানা দেয়। প্রথমেই হোটেলের রেজিস্টার খতিয়ে দেখে পুলিস। তিস্তা সেনের নাম পেতেই পুলিস সোজা হাজির হয় ২১০ নম্বর রুমে। ভাড়া দিনে দু’হাজার টাকা। এছাড়া কুকুরের জন্য আলাদা চার্জ। পুলিস সেই রুম থেকে তিস্তাকে ধরে সোজা সন্দেশখালির উদ্দেশে চলে যায়।
রিসর্টের মালিক আশিস মণ্ডল বলেন, ‘একা থাকায় প্রথমে রুম দিতে চাইনি। পরে ওই মহিলা বলেন, রেজিস্টার খুলে দেখুন। দিন কয়েক আগে স্বামীর সঙ্গে এসেছিলাম। তখনও সঙ্গে কালো দু’টি কুকুর ছিল। এদিনও তার সঙ্গে ওই দুই কুকুর থাকায় চিনতে পেরে রুম ভাড়া দেওয়া হয়। রবিবার রাতের দিকে সাদা পোশাকে পুলিস এসে ওই মহিলার খোঁজখবর শুরু করে। রেজিস্টারের সঙ্গে থাকা আইডি মিলিয়ে ওই মহিলাকে রুম থেকে ধরে নিয়ে যায়। তবে, যাওয়ার আগে রুমের ভাড়া মিটিয়ে দেন ওই মহিলা। তখনও পর্যন্ত জানি না ওই মহিলাকে কেন ধরে নিয়ে গেল পুলিস। পরে সংবাদ মাধ্যমে সব কিছু জানতে পারি। রিসর্টের কর্মীরা জানান, পুলিস রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে দু’টি কুকুর ও চারচাকা গাড়ি নিয়ে যায়।’ পুলিস জানিয়েছে, সোমবার খুব সকালে তিস্তার ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে যাওয়ার প্লান ছিল। তার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিস্তাকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় একটাই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। ক্রমেই কি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠছে তারাপীঠ? এর আগে বিহারে ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনায় তারাপীঠের একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ছাত্র সৌরভ চৌধুরি খুনে মূল অভিযুক্ত শ্যামল কর্মকার ও তার সাগরেদ রতন দাস ওরফে তোতা ধরা পড়ে তারাপীঠের একটি লজ থেকে। বোলপুরের প্রাক্তন শিক্ষিকা রেণু সরকার খুনে অভিযুক্ত মঙ্গল সাহানিও দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তারাপীঠের একটি লজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই তারাপীঠের লজ থেকেই আন্তঃরাজ্য গাড়ি পাচারকারীও ধরা পড়ে। বিভিন্ন সময় লজ থেকে ভিন রাজ্যের অস্ত্র কারবারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। তিস্তা সর্বশেষ সংযোজন। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের অন্যতম তীর্থস্থানকে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।