Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এগচ্ছে তিস্তা, বাড়ির সামগ্রী স‌রাচ্ছেন টটগাঁওয়ের বাসিন্দারা

দু’বছর আগেও গ্রাম থেকে আড়াই কিমি দূরে প্রবাহিত হতো তিস্তা নদী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমে লেক বিপর্যয়ের পর সেই তিস্তা মাল ব্লকের টটগাঁওয়ে বস্তির দিকে এগিয়ে এসেছে।

এগচ্ছে তিস্তা, বাড়ির সামগ্রী স‌রাচ্ছেন টটগাঁওয়ের বাসিন্দারা
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: দু’বছর আগেও গ্রাম থেকে আড়াই কিমি দূরে প্রবাহিত হতো তিস্তা নদী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমে লেক বিপর্যয়ের পর সেই তিস্তা মাল ব্লকের টটগাঁওয়ে বস্তির দিকে এগিয়ে এসেছে। যার পরিণতিতে গত বছর টটগাঁওয়ের ১৫টি ঘর তিস্তাগর্ভে চলে গিয়েছে। এবছর পাহাড়ে অবিরাম বৃষ্টিতে তিস্তার জলস্ফীতি হয়েছে। এতে টটগাঁও বস্তির অনেক বাড়ির দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে আগ্রাসী তিস্তা। তাই আগাম সতর্কতা নিয়ে রবিবার সেই টটগাঁওয়ে ওসমান আলি, সুশান্ত শর্মার মতো অনেকে পাকা বাড়ির সব সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেলেন। পড়ে রইল কংক্রিটের ভাঙা দালান।

Advertisement

তিস্তা নিজের প্রবাহের পুরানো স্বাভাবিক গতিমুখ ঘুরিয়ে বাঁদিকে  টটগাঁওয়ের দিকে আসছে। এতে বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। গতবছরের ঘটনা মনে করে দিলকুমার লিম্বু এবং রঞ্জু লামা বলেন, বাড়ি এভাবে নদীগর্ভে চলে যাবে, অনেকে ভাবতেই পারেননি। 
গতবছর থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন সকাল থেকে টটগাঁওয়ের ৪৩টি বাড়ি একে একে ভেঙে দিলেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত শর্মা বলেন, কী আর করার আছে! এখানে থাকার আর ভরসা পাচ্ছি না। তাই পাকা বাড়ির সবকিছু খুলে নিয়ে যাচ্ছি। ব্লক প্রশাসন সুন্দরী বস্তিতে আমাদের অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছে। সেখানে ঘর বানিয়ে থাকব। আর এক বাসিন্দা ওসমান আলিও ট্রাক্টর-ট্রলি এনেছেন। বাড়ির সামগ্রী, জানালা, টিন, দরজা খুলে ট্রলিতে ভরে অন্যত্র নিয়ে গেলেন। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে রাতে ঘুমোনো যায় না। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। এভাবে বাড়িতে থাকলে নদীর জলে ডুবে মারা যাব। 
টটগাঁয়ের এই পরিস্থিতি নিয়ে মাল মহকুমা শাসক শুভম কুন্ডল বলেন, ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে টটগাঁওয়ে নজরদারি রাখা হচ্ছে। অনেককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেচদপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিকের কথায়, সিকিম লেক বিপর্যয়ের পর তিস্তা টটগাঁওয়ের কাছে কিছুটা গতিমুখ পাল্টে বস্তির দিকে এগিয়ে এসেছে। এখানে তিস্তাকে আটকানো সম্ভব নয়। কিছু অংশে কাজ করা হলেও ভয়ঙ্কর তিস্তার সামনে খুব একটা কাজে লাগছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ