সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ঝাড়খণ্ডের কিশোররা মোবাইল চুরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছে শিলিগুড়িতে! একটি মোবাইল চুরি করে দিতে পারলে মিলছে পাঁচশো টাকা। এই প্রলোভনে ঝাড়খণ্ডের দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের ফাঁদে ফেলে শিলিগুড়িতে এনে গ্যাং তৈরি করা হয়েছে। ট্রেন ও রেল স্টেশনে যাত্রীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য জিনিস চুরি কাজে নামানোর আগে এদের ভালো মতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে তাদের উদ্ধারের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করে রাখছে গ্যাঙের পান্ডারা।
ট্রেন যাত্রীদের ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেট সহ দামি সামগ্রী চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে আরপিএফের। সম্প্রতি এনজেপি স্টেশনে এক কিশোরকে মোবাইল চুরির অপরাধে আরপিএফ ধরে। তাকে জেরা করে ঝাড়খণ্ড থেকে গরিব ঘরের কিশোরদের শিলিগুড়িতে এনে অপরাধ জগতে যুক্ত করার ঘটনার কথা অফিসাররা জানতে পারেন। আরপিএফ সূত্রেই জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকেই এই গ্যাং পরিচালনা ও চুরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এদের শিলিগুড়িতে থাকার ব্যবস্থাও করেছে পান্ডারা। এরা এনজেপি সহ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থাকছে। দূরপাল্লার ট্রেনে চেপেও অনেক সময় চুরি করছে।
সম্প্রতি শিলিগুড়িতে পাড়ায় পাড়ায় চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই বহিরাগত কিশোর অপরাধীদের শহর এলাকায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নাগরিকরা। আরপিএফের এনজেপি পোস্ট কমান্ডান্ট মুকেশকুমার রজক বলেন, যাত্রীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য জিনিস চুরি সম্প্রতি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সাফল্য পেয়েছি। সম্প্রতি এক কিশোর মোবাইল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে। তাকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ছেলেটি স্বীকার করেছে, ঝাড়খণ্ড থেকে শিলিগুড়িতে এসে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চুরির কাজে নেমেছে।
একটি মোবাইল চুরি করে দিতে পারলে ৫০০ টাকা করে মেলে। তার সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের আরও কিশোর শিলিগুড়িতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজ করছে। গোটা গ্যাংটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।
মুকেশকুমার আরও বলেন, সংগঠিতভাবে এই গ্যাং চালানো হচ্ছে, তারও প্রমাণ পেয়েছি আমরা। কারণ ওই কিশোর আমাদের হাতে ধরা পড়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যে দুই আইনজীবী উপস্থিত হন। ধৃত কিশোরকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করতে তাঁরা এসেছিলেন। যদিও তাঁরা সফল হননি।