সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আত্মগোপন করে পালিয়ে বেড়ালেও শেষরক্ষা হল না রানিনগরে কিশোরী খুনে মূল অভিযুক্ত গোলাব হোসেনের। ঘনঘন ডেরা বদলাতে গিয়ে পকেটের টাকা শেষ হয়ে যায়। তখনই সিদ্ধান্ত নেয়, লুকিয়ে বাড়ি ফেরার। কিছু টাকা-পয়সা জোগাড় করে ফের আত্মগোপন করবে। কিন্তু, সেই ইচ্ছে আর পূরণ হল না। বৃহস্পতিবার রাতে জঙ্গিপুর স্টেশন থেকে গোলাবকে জালে তোলে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। তার বাড়ি রানিনগরেই৷ এদিকে, গোলাব ধরা পড়তেই তদন্তের গতিপথও মোড় নেয়। পুলিস তাকে জেরা করে জানতে পেরেছে, নিহত ওই কিশোরীর সঙ্গে গোলাবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু গোলাব তাকে জানিয়েছিল, কিছুদিন পর বিয়ে করে তবেই বাড়িতে তুলবে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। কিশোরী নাছোড় হওয়ায় তাকে খুনের পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত। ধৃতকে শুক্রবার সকালে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। হেফাজতে নিয়ে তাকে আরও জেরা করবেন তদন্তকারীরা। রঘুনাথগঞ্জ থানার এক পুলিস আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খুনের কথা সে স্বীকারও করেছে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। গত সোমবার স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ওই কিশোরী। সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। রাতে সামশেরগঞ্জে থানায় নিখোঁজ ডাইরি করেন কিশোরী মা। ওই দিন রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিশোরীর গলার নলি কেটে খুন করে গোলাব। তারপর তাকে রানিনগর ভাটুপাড়া মাঠে তিলখেতে ফেলে পালায় সে। রাতে হাওড়া জেলায় আত্মগোপন করে। সেখানে নিরাপদ না বুঝে ঘনঘন ঠিকানা বদলাতে থাকে। খাওয়াদাওয়া করতে গিয়ে টাকাও শেষ হয়ে যায়৷ টাকা আনতেই ট্রেন ধরে সে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফিরছিল। পুলিস আগে থেকেই গোলাবের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। স্টেশনে সাধারণ পোশাকে ওঁত পেতে বসে ছিল পুলিস। ট্রেন থেকে গোলাব নামতেই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে।



