Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রযুক্তির বিড়ম্বনা! ডাকঘরের পরিষেবা লাটে, সঙ্কটে প্রবীণরা

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ঠেলায় ওষ্ঠাগত জীবন! এবার প্রভাব পড়ল পোস্ট অফিসের পরিষেবায়।

প্রযুক্তির বিড়ম্বনা! ডাকঘরের পরিষেবা লাটে, সঙ্কটে প্রবীণরা
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ঠেলায় ওষ্ঠাগত জীবন! এবার প্রভাব পড়ল পোস্ট অফিসের পরিষেবায়। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার বহরমপুর হেড পোস্ট অফিসে দাঁড়িয়েছিলেন এক প্রবীণ ব্যক্তি। বলছিলেন, ‘তিন দিন ধরে পোস্ট অফিসে চক্কর কাটছি। কিন্তু, কাজ মিটছে না। পেনশনের টাকা তুলতে  পারছি না। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছি।’ কেন্দ্র সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রচার এবং প্রসরে গোটা দেশই এখন ব্যস্ত। ভারতীয় ডাক বিভাগকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর করতে অ্যাডভান্স পোস্টাল টেকনোলজি ২.০ চালু হয়েছে। ফলে সোমবার থেকে জেলার অধিকাংশ পোস্ট অফিস এবং সাব পোস্ট অফিসে কোনও পরিষেবা মিলছে না। আগে যে টুকু ডিজিটাল কাজকর্ম হচ্ছিল, সেটাও লাটে উঠেছে। চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।
গত সোমবার ওই নয়া প্রযুক্তি চালু করার কথা ছিল। তার জন্য গত শনিবারই ডাকঘরের সব পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু সোমবার থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠ পরিষেবা তো দূর অস্ত, ন্যূনতম পরিষেবাও পাননি গ্রাহকরা। সেভিংস অ্যাকাউন্টে লেনদেন থেকে শুরু করে পার্সেল বুকিং বা স্পিড পোস্টের মতো ডাক পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবারও গ্রাহকরা এসে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য সময় কাজ হলেও, সার্ভার সমস্যা দেখা দেয়। সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পেনশন গ্রাহকরা। লক্ষ লক্ষ প্রবীণরা মাসের শুরুতে হকের টাকা পাচ্ছেন না। সংসার চালানো থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে ঘোরতর সঙ্কটে পড়ছেন। হেড পোস্ট অফিসে কিছুটা কাজ হলেও সাব পোস্ট অফিসগুলির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। 
ভরতপুর সাব পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার প্রিয়দর্শী পাল বলেন, ‘গত সাত দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। সার্ভার আপডেট হচ্ছে। কিন্তু এখনও পুরোপুরি আপডেট হয়নি। কাজ করতে পারছি না। চিঠিপত্র বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ জায়গায় একই অবস্থা। আমরা ভেবেছিলাম শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করতে পারব। কিন্তু যা অবস্থা দেখছি, পরিষেবা সাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে।’  
বহরমপুর হেড পোস্ট অফিসের লাইনে দাঁড়িয়ে স্বপন বিশ্বাস বলেন, ‘এক ঘণ্টার উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। লিঙ্ক পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্টাফরা কোনও কাজ করছেন না। সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ করতে পারব কি না জানি না।’ 
ডাক বিভাগের সাধারণ বুকিং কাউন্টারে থাকা কর্মী বলেন, আগে যে কাজ করতে দু’মিনিট সময় লাগত, সেটা এখন দশ মিনিটেও করা যাচ্ছে না। সার্ভারে শুধু লোডিং দেখাচ্ছে। কাজ করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। এমনকি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ট্রেজারিতে অর্থ আদান-প্রদান করতেও আমাদের ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যাচ্ছে। একদিনের লেনদেনের আর্থিক হিসেব না মিললে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। আগের দিনের হিসেব পরদিন সকালে গিয়ে মেলাতে হচ্ছে কোনও কোনও ডাকঘরে।
ডাক বিভাগের মুর্শিদাবাদ ডিভিশনের সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট সমর গোলদার বলেন, ‘নতুন সিস্টেমে অনেক রকমের ইস্যু তৈরি হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে। সর্বস্তর থেকেই চেষ্টা চলছে। সার্বিকভাবে ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্যই তো নতুন প্রযুক্তি চালু হয়েছে। তবে, পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। সকালের দিকে সার্ভারে কিছুটা ক্রাউড বেশি থাকে। সেজন্য কখনও কখনও আমাদের কর্মীরা একটু সমস্যায় পড়ছেন। ছোট অফিসগুলিতে বুকিং হচ্ছে না। বহরমপুর হেড পোস্ট অফিসে দূর দুরান্ত থেকে বুকিং করতে আসছেন অনেকে। আমরা চেষ্টা করছি, একটা অতিরিক্ত কাউন্টার বাড়ানোর।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ