সংবাদদাতা, বহরমপুর: স্কুলছুট পড়ুয়াদের ফেরাতে অভিযানে নামলেন বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একটানা দু’সপ্তাহ হাজিরা খাতায় নাম না উঠলেই শিক্ষকরা দলবল নিয়ে পড়ুয়ার বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছেন। সমস্যার কথা শুনে তাঁদের আশ্বস্ত করে পড়ুয়াদের স্কুলে ফিরিয়ে আনছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, খুব ভালো সাড়া মিলছে। ইতিমধ্যে বহু ছাত্রছাত্রীকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শুভাশিস দে বলেন, আমার চক্রের প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্কুলছুট পড়ুয়াদের বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকলেই খুব ভালো কাজ করছেন। নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে সমস্ত স্কুলছুট পড়ুয়াকে স্কুলে ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।
বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রে মোট ৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই চক্রে ২৮টি জুনিয়র হাইস্কুল রয়েছে। একইসঙ্গে সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলছুট পড়ুয়াদের ফেরাতে মাঠে নেমেছে। ডিসেম্বরের প্রথম থেকে শিক্ষকরা অভিযান শুরু করেছেন। একটানা গরহাজির ছাত্রছাত্রীদের নামের তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন শিক্ষকরা। ছাত্রছাত্রীদের মা-বাবার সঙ্গে তাঁরা কথা বলছেন। স্কুলে না আসার একাধিক কারণ উঠে আসছে। কোথাও পড়ুয়াদের অনিচ্ছা রয়েছে। কোথাও রোজ স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকের অনিচ্ছা রয়েছে। কোথাও আবার বাড়ি পরিবর্তন করায় পড়ুয়ারা স্কুলে আসছে না। অভিভাবকদের যথাসম্ভব বুঝিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরানো হচ্ছে। তেজপাল লোহিয়া জিএসএফপি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চতুর্থ ও দ্বিতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রী অনন্যা কৌরী ও অদিতি কৌরীর হদিশ পাচ্ছে না। তারা দুই বোন। তাদের অভিভাবক মোবাইল নম্বরও পরিবর্তন করে ফেলেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিন্দ্য সিংহ বলেন, দুই বোন বেশ কিছুদিন ধরেই গরহাজির রয়েছে। স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেটও নিয়ে যায়নি। আমরা দু’জনকে খুঁজে বের করার প্রচুর চেষ্টা করেছি। আমাদের অনুমান, তাদের অভিভাবক বাড়ি বদল করে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তবে, এই অভিযানে বেশ কয়েকজনকে স্কুলে শামিল করেছি।
১নম্বর মণীন্দ্রনগর জিএসএফপির প্রধান শিক্ষক বিভাস মণ্ডল বলেন, টানা পনেরো দিন গরহাজির থাকলে, আমাদের সেই পড়ুয়ার বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটানা সাতদিন অনুপস্থিত থাকলেই আমরা সেই পড়ুয়ার বাড়ি চলে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে খুব ভালো সাড়া মিলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্কুলে ফেরাতে পেরেছি।