Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিআইডির হাতে দুই ক্লার্ক গ্রেপ্তার হতেই মুখ খোলা শুরু শিক্ষকদের

পিএফ থেকে লোন কিংবা স্কুলে শূন্যপদ রিটেনশন সহ যেকোনও কাজে টাকা দিতেই হতো।

সিআইডির হাতে দুই ক্লার্ক গ্রেপ্তার হতেই মুখ খোলা শুরু শিক্ষকদের
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: টাকা ছাড়া টেবিল থেকে নড়ত না ফাইল। পিএফ থেকে লোন কিংবা স্কুলে শূন্যপদ রিটেনশন সহ যেকোনও কাজে টাকা দিতেই হতো। ভুয়ো শিক্ষক মামলায় শুক্রবার রাতে দুই আপার ডিভিশন ক্লার্ক(ইউডিসি) সিআইডির হাতে ধরা পড়তেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন শিক্ষকরা। ধৃত পুলকেশ মাইতিকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষকরা একবার দলবেঁধে ডিআই অফিসে মারধর করেছিলেন বলেও অভিযোগ। অপর ধৃত ইউডিসি সুব্রত তুঙ্গকে খুশি করতে না পারলে ফাইল হাপিশ করে দিতেন বলেও শিক্ষকরা একযোগে অভিযোগ করছেন। এভাবেই তাঁরা তমলুকের মানিকতলায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসকে বছরের পর বছর ধরে ঘুষ খাওয়ার একটা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন।

Advertisement

তমলুক থানার মিরিকপুরে সুব্রতর বাড়ি। বাড়ির নাম ‘দিনান্তে’। শ্রীরামপুর রাস্তা থেকে ৫০মিটার দূরে তিনতলা ওই বাড়ি যেন অট্টালিকা। সামনে ছবির মতো বাঁধানো মন্দির। গোটা বাড়িতে দামি মার্বেল বসানো। সামনে সেগুন কাঠের ভারী দরজা। কলিং বেল টিপতেই সেগুন কাঠের দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন ধৃত সুব্রতবাবুর স্ত্রী শোভা তুঙ্গ। জানালেন, মিরিকপুর গ্রামের ভিতরে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ছিল। কয়েক বছর আগে সেখান থেকে পিচ রাস্তার কাছাকাছি এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে। প্রায় ২৫-২৬ বছর ধরে সুব্রত চাকরি করছেন। তাঁদের দুই ছেলে। একজন একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়ান। অপরজন প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন।
মিরিকপুর গ্রামের বাসিন্দারাই বলছেন, সুব্রতবাবু জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে একজন করণিক হয়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক। গ্রামে তিনতলা প্রাসাদোপম বাড়ি বানিয়েছেন। এছাড়াও ফ্ল্যাট, জমি রয়েছে। রাজ্য সরকারের একজন করণিক কীভাবে এত সম্পত্তির মালিক হলেন, সেটা তদন্ত করা উচিত। 
অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস সংগঠনের জেলা সম্পাদক মৃন্ময় মাজি বলেন, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে নিজেদের কাজে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ। উৎকোচ না দিলে ফাইল নড়ে না। এরকম একটি জেলার অফিস থেকে দুই কর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনা সত্যিই লজ্জার বিষয়।
তমলুক শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা কোলাঘাটের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের বাংলার শিক্ষক বলেন, সুব্রত কোলাঘাট ব্লকের ডিলিং ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে ওই ব্লকের সব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফাইল তাঁর হাত দিয়ে উপযুক্ত জায়গায় পৌঁছত। অ্যাপ্রুভ্যাল থেকে লোন সহ যে কোনও কাজে তিনি দর ফিক্সড করে দিয়েছিলেন। এনিয়ে ওই ক্লার্কের সঙ্গে একবার তুমুল ঝামেলার পর দেড় বছর ডিআই অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
উল্লেখ্য, তমলুক ব্লকের খামারচক হাইস্কুলের ভুয়ো শিক্ষকদের নথি জালিয়াতি করে তাঁদের রেগুলার শিক্ষক হিসেবে সুযোগ সুবিধা পেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে সুব্রত ও পুলকেশ এখন সিআইডির জালে। তারা গ্রেপ্তার হতেই শিক্ষকদের অনেকে বলছেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
এনিয়ে সুব্রতবাবুর স্ত্রী শোভাদেবী বলেন, স্বামী অনেকদিন ধরে চাকরি করছেন। তাঁর জমানো টাকা থেকেই বাড়ি বানানো হয়েছে। কারা ঘুষের অভিযোগ করছেন জানি না। এরকম অভিযোগ আগে কখনও ওঠেনি। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, আমি দু’মাস হল এখানে বদলি হয়ে এসেছি। এধরনের ঘটনা আমার আসার আগে ঘটেছে। তাই সবটা আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ