সংবাদদাতা, ঘাটাল: গৃহকর্তার মৃতদেহ থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করলেও তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা কেউ কিছু টেরই পাননি! পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করার পরই তাঁরা জানতে পারেন যে, গৃহকর্তা মারা গিয়েছেন। বুধবার রাতে এমনই রহস্যজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেন ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কুশপাতার বাসিন্দারা। মৃতের নাম অরিন্দম মুখোপাধ্যায় (৫৩)। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ঘাটাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতেই মৃতের প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার মৃতদেহে ময়নাতদন্ত করে পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে অরিন্দমবাবুর স্ত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তারা তদন্ত শুরু করবে।
অরিন্দমবাবুর স্ত্রী বিউটি বাগ মুখোপাধ্যায় ঘাটাল শহরের কৃতার্থময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তাঁদের কলেজ পড়ুয়া একটি মেয়ে ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়া একটি ছেলে রয়েছে। অরিন্দমবাবুর আদিবাড়ি চন্দ্রকোণা থানার হেমতপুরে। বেশ কয়েক বছর হল তাঁরা হোম লোন নিয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িটি তৈরি করে সেখানেই বসবাস করেন।
প্রতিবেশীদের থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে অরিন্দমবাবুকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। তারপর আর দেখা যায়নি। বুধবার রাতে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভেতর থেকে বন্ধ করা একটি ঘরের মধ্য থেকে শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ তারা বুধবার উদ্ধার করে। পুলিশের অনুমান, মৃতদেহ উদ্ধারের অন্তত ৫০ ঘণ্টা আগে শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
একই বাড়িতে একটি ঘরে গৃহকর্তা টানা আড়াই দিন আটকে রয়েছেন, কোনও সাড়াশব্দ নেই, এমনকী খাওয়াদাওয়া, স্নান করছেন না এনিয়ে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা নিরুত্তাপ ছিলেন কেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পুলিশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় প্রতিবেশীরা দেখতে পান, এত বড় ঘটনা ঘটার পরও মৃতের স্ত্রী ও সন্তানদের চোখেমুখে কোনও বিষাদের ছায়া ছিল না।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর রাতেই পুলিশ বিউটিদেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। পুলিশকে ওই শিক্ষিকা জানিয়েছেন, অরিন্দমবাবু নিয়মিত মদপান করে বাড়িতে অত্যাচার করতেন, সেই জন্যই স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল না। বাড়ির প্রয়োজনে টাকাও নাকি অরিন্দমবাবু দিতেন না। শুধুমাত্র যৌথভাবে নেওয়া হোম লোনটির কিস্তিটি নিয়মিত দিতেন। অরিন্দমবাবু মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের মাঝে মধ্যে মারধরও করতেন বলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে।
অরিন্দমবাবুর প্রায় আড়াই দিন ধরে ঘর থেকে না বেরোনোর বিষয়ে মৃতের পরিবারের বক্তব্য, স্কুল ছুটি থাকলে অনেক সময়ে অরিন্দমবাবু খাবার নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে যেতেন, দু’-তিন বেরতেন না। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে বলে মৃতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অনুমান করেছিলেন। দুর্গন্ধের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, মদ্যপ অবস্থায় অনেক সময় রুমের মধ্যে বেডের পাশেই পায়খানা করে ফেলতেন। এবার সেরকমই কিছু হয়েছিল সেখান থেকেই দুর্গন্ধ নির্গত হচ্ছিল বলে তাঁরা অনুমান করেছিলেন। সেজন্যই গুরুত্ব দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তাঁদের সন্দেহজনক ঠেকছে। কিছু ব্যাখ্যা অসংলগ্ন বলে মনে হয়েছে। অভিযোগ এলে তবেই তারা তদন্ত শুরু করবে।