সংবাদদাতা, মাথাভাঙা ও দিনহাটা: এসআইআর নিয়ে চারদিকে যখন বিএলওরা কান্নাকাটি করছেন তখন নিজের কাজ শেষ করে নথিপত্র জমা করলেন মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৫২ নম্বর বুথের বিএলও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী অঞ্জনা দাস সিং।
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা ও দিনহাটা: এসআইআর নিয়ে চারদিকে যখন বিএলওরা কান্নাকাটি করছেন তখন নিজের কাজ শেষ করে নথিপত্র জমা করলেন মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৫২ নম্বর বুথের বিএলও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী অঞ্জনা দাস সিং।
মঙ্গলবার বিডিও অফিসে গিয়ে সমস্ত নথিপত্র জমা করেছেন। ব্লক প্রশাসনও এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর কাজে খুশি। অন্যদিকে, সোমবার রাতে ১০০ শতাংশ ইনিউমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পূর্ণ করেছেন বিএলও আইয়ুব আলি। মঙ্গলবার তিনি হাজির হন তাঁর কর্মস্থল প্রাথমিক বিদ্যালয়। দিনহাটা-১ ব্লকে সবার আগে আইয়ুব সাহেব তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। এরআগেও এই ব্লকে দু’বার সেরা বিএলও সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।
অঞ্জনাদেবী সমস্ত কাজ শেষ করে ফেলেছেন। ২৫২ নম্বর বুথে ভোটার রয়েছে ১২১১ জন। ভোটারের বাড়িতে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া ও জমা নেওয়া সহ আপলোড করার কাজ সম্পূর্ণ করেছেন একাহাতে। স্বাভাবিকভাবে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর এই কৃতিত্বে খুশি ব্লক প্রশাসনের অধিকারিকরা।
অঞ্জনা দাস সিং বলেন, অযথা ঘাবড়ে গিয়ে নিজের কাজের গতি শ্লথ করার কোনও মানে নেই। যে সময়টায় সার্ভার ভালো কাজ করে সেই সময়টা বেছে নিয়ে ভোটারদের তথ্য আপলোড করতে হবে। একটু আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান কাজল রায় বলেন, বিএলও অঞ্জনা দাস সিং যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছেন। মাথাভাঙা-১ এর বিডিও শুভ্রজিৎ মণ্ডল বলেন, একজন বিএলও এসআইআরের কাজ শেষ করেছেন। ওই বিএলও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। আমরা দারুন খুশি তাঁর কাজে।
সিতাই বিধানসভার ২৯৪ নম্বর বুথের বিএলএও দায়িত্ব পেয়েছেন আইয়ুব আলি। ৮৬৪ জন ভোটার এই বুথে। তাঁর দাবি, ভোর ৩টে উঠে ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ করতেন। টানা তিন ঘণ্টা কাজ করতেন। কারণ ওই সময় সার্ভারে কোনও সমস্যা আসত না।
দিনহাটা-১ ব্লকের পশ্চিম সার্কেলে রঘুনন্দন ফোর্থ প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তিনি।
মঙ্গলবার সকালে স্কুলে পৌঁছে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেন। মিড ডে মিলের কাজেও দেখাশোনা করেন। আইয়ুব আলি বলেন, দিনহাটা-১ ব্লকে আমি সবার প্রথম এসআইআর ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলি বলেন, আমাদের স্কুলে তিনজন শিক্ষক বিএলও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আইয়ুব আলি দিনহাটা-১ ব্লকে সবার আগে ফর্ম ১০০ শতাংশ ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। এদিন উনি স্কুলে আসেন।