Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুপ্রিম রায় শুনেই চোখে জল পুরুলিয়ায় স্কুল ছাড়‌লেন শিক্ষিকা

জানতেন সুপ্রিম কোর্ট রায় জানাবে। শীর্ষ আদালতের উপর ভরসা ছিল।

সুপ্রিম রায় শুনেই চোখে জল  পুরুলিয়ায় স্কুল ছাড়‌লেন শিক্ষিকা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: জানতেন সুপ্রিম কোর্ট রায় জানাবে। শীর্ষ আদালতের উপর ভরসা ছিল। তাই প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও স্কুল গিয়েছিলেন চিত্তরঞ্জন গার্লসের শিক্ষিকা মন্নিকা মণ্ডল। ভেবেছিলেন, নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন, রায় পক্ষেই যাবে। কিন্তু আদালতের রায় শুনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাড়ি চলে গেলেন তিনি। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চের রায়ে চাকরিহীন হলেন ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় চাকরিহারাদের হাহাকার। কীভাবে সংসার চলবে, কীভাবে মা বাবার ওষুধের খরচ জোগাবেন, কীভাবেই বা অবিবাহিত বোনের বিয়ে দেবেন— ভেবেই আকুল তাঁরা। কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তাঁদের। 
এদিন স্কুলে পৌঁছনোর পরেই খবরটা পান চিত্তরঞ্জন গার্লসের শিক্ষিকা মন্নিকা।  বলেন, স্কুলে থাকাকালীনই খবরটা পেয়ে বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। আর কি স্কুলে থাকা যায়? বলেই চোখের জল ফেলতে শুরু করেন। স্কুলের পড়ুয়াদের কাছে সৎ, আদর্শবান বলে পরিচিত ওই শিক্ষিকার প্রশ্ন, জীবনে কোনওদিন কোনও অন্যায় করিনি। চাকরি পাওয়ার জন্য কোনও অবৈধ উপায় অবলম্বন করিনি। কাউকে একটাকাও দিইনি। ভেবেছিলাম আমাদের পক্ষেই রায় হবে। আদালত কি আমাদের কথা একটুও ভেবে দেখতে পারলেন না? আমাকেও অযোগ্যদের দলে ফেলে দিল?
সকাল থেকে কেঁদে কেঁদে চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে বামুনডিহা হাইস্কুলের সুস্মিতা মাহাতর। তিনি বলছিলেন, এই চাকরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিশ্চিয়তা, মানসিক যন্ত্রণায় ভূগছিলাম, ভেবেছিলাম আজই হয়তো সেসব থেকে মুক্তি পাব। কিন্তু এই রায় জীবনটাকে ওলটপালট করে দিল। শীর্ষ আদালতের রায় কী হবে, এই টেনশনে স্কুলেই যাননি পুরুলিয়ার বরাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিষেক দাঁ। কয়েক বছর আগেই বাবা মারা গিয়েছেন। বাড়িতে মা, স্ত্রী ও তিন বছরের সন্তান রয়েছে। তাঁদের নিয়ে এখন কী যে করবেন ভেবেই কুল পাচ্ছেন না তিনি। তিনি বলছিলেন, আদালতের রায় আমাদের অসহায়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। এবার কী করব? পরিবারের লোকজনকে খাওয়াব কি? আদালতের এই রায়ে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে, তাঁরা কোনও চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এই ভয়ে সিঁটিয়ে তাঁদের পরিবার। অনেকে বলছেন, আর কিছু হারানোর থাকল না। এর থেকে মৃত্যুদণ্ড ভালো।  পুরুলিয়ার একটি স্কুলের সামনে বিষাদগ্রস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ