Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরীক্ষার গার্ড দিতে এসে শিক্ষক জানলেন চাকরিটাই আর নেই

রোজদিনের মতো শিক্ষকের ভূমিকায় স্কুলে এসেছিলেন। পরীক্ষা চলায় গার্ড দেওয়ার দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন।

পরীক্ষার গার্ড দিতে এসে শিক্ষক জানলেন চাকরিটাই আর নেই
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, শীতলকুচি: রোজদিনের মতো শিক্ষকের ভূমিকায় স্কুলে এসেছিলেন। পরীক্ষা চলায় গার্ড দেওয়ার দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের পরেই স্কুল থেকে বেরিয়ে গেলেন চাকরিহারা দুই শিক্ষক। বৃহস্পতিবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় শীতলকুচি গোপীনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে। 

Advertisement

শীতলকুচি বাজার থেকে কিছুটা দূরে সিতাই-শীতলকুচি রাজ্য সড়কের পাশেই এই স্কুল। এদিনের রায়ে স্কুলের সাতজন শিক্ষক ও দু’জন গ্রুপ-সি কর্মী মিলিয়ে মোট ন’জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। একসঙ্গে এতজন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় শোরগোল পড়েছে এলাকায়। এদিকে, শিক্ষকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্কুলে দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানো নিয়েও সংশয়ে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। 
চাকরিহারাদের মধ্যে এদিন বিজ্ঞান বিভাগের দু’জন শিক্ষক স্কুলে এসেছিলেন। প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা ছিল,তাই গার্ড দেওয়ার জন্য ক্লাসরুমে ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের খবর আসা মাত্রই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই দুই শিক্ষক। এরপর প্রধান শিক্ষকের কাছে বাড়ি ফেরার অনুমতি নিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে যান। যদিও চাকরিহারা ওই দুই শিক্ষকের কোনও মন্তব্য মেলেনি। 
এদিনের ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষায় কোনও প্রভাব পড়েনি। ছাত্রছাত্রীরা সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা দিয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরিহারাদের মধ্যে পাঁচজন বিজ্ঞান ও দু’জন কলা বিভাগের শিক্ষক। সাত শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় বর্তমানে স্কুলের শিক্ষক কমে দাঁড়িয়েছে ২০ জন। প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় বণিক বলেন, আমাদের কাছে এখনও দপ্তর থেকে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। রায়দানের পরে দু’জন শিক্ষক বাড়ি যাওয়ার অনুমতি নিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তার উপর আমাদের নির্ভর করতে হবে। কিন্তু একসঙ্গে এতজন শিক্ষক চলে গেলে পঠনপাঠন ও দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়বে। 
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সমরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এখনও কোনও নির্দেশিকা হাতে পাইনি। তবে এই সংখ্যাটি চারশোর কিছু বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, এবিটিএর জেলা সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, জেলায় প্রায় চারশো শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বেশকিছু স্কুলে ৮ থেকে ১১ জনের চাকরি গিয়েছে। ২০১৬-র প্যানেল বাতিল হওয়াতেই এই বিপত্তি। বিজেপির শিক্ষা সেলের জেলা আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন দত্ত বলেন, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার কারণেই চাকরিহারাদের কপালে এই দুর্ভোগ। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি মানস ভট্টাচার্য বলেন, এই বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করছি না। 
 শীতলকুচি গোপীনাথ উচ্চ বিদ্যালয়। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ