নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: জাতীয় সড়কে ধস নামার জেরে রাস্তার মাঝে তৈরি হয়েছিল বড় গর্ত। রাতের অন্ধকারে বাইক নিয়ে সেই গর্তে পড়েই বেঘোরে প্রাণ হারালেন এক স্কুল শিক্ষক। রবিবার রাতে পুরুলিয়া-ধানবাদ ৩২ নম্বর পুরাতন জাতীয় সড়কে পুরুলিয়া শহরের জলট্যাঙ্কি মোড়ের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়(৩৬)। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার লাগদায়। সোমবার সকাল থেকেই এনিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। প্রশাসনের ভূমিকায় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা অবরোধ করেন। তাঁদের ক্ষোভ, পুরুলিয়া পুরসভা ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে তরতাজা একটা প্রাণ অকালে চলে গেল।
সুরজিৎবাবু লাগদা গার্লস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। মৃতের দাদা নৃপেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবিবার রাতে ভাই তার এক বন্ধুকে পুরুলিয়া ছাড়তে এসেছিল। ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমরা জানতে পারি। আমাদের একজন ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে। জানায় যে ভাইয়ের খুব আশঙ্কাজনক অবস্থা। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছে দেখি সব শেষ।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে পুরুলিয়া থেকে লাগদা ফেরার সময় সুরজিৎবাবু কোনওভাবে ওই গর্তে পড়ে যান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়া ভক্তের দল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লাগদার বহু মানুষ পুরুলিয়া শহরের জলট্যাঙ্কি মোড়ে কাছে জড়ো হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার বেশি সময় তাঁরা রাস্তা অবরোধ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌভিক মুখোপাধ্যায় বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আমিও প্রতিদিন যাতায়াত করি। প্রায় ১০দিনের বেশি সময় ধরে ওই গর্তটা রয়েছে। গর্তটা এতটাই বড় ভিতরে একটা মানুষ ঢুকে যেতে পারে। অথচ এতদিন ধরে গর্তটা কারও চোখে পড়ল না? প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর নিজেদের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি করছে।
লাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ময়ূরবাহন ঘোষাল বলেন, ওই শিক্ষকের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, মা আছেন। পাঁচ বছরের একটি ছোট মেয়ে আছে। স্রেফ প্রশাসনের উদাসীনতার জন্য তরতাজা ওই যুবককে চলে যেতে হল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় ওই শিক্ষকের অত্যন্ত সুনাম ছিল। প্রতিবেশীদের বিপদে আপদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তেন। পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, গর্তটি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ছিল। তবে গার্ডরেল দেওয়া ছিল। স্ট্রিট লাইটও ছিল। তা সত্ত্বেও কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, সিসিটিভি ক্যামেরা খতিয়ে দেখতে হবে।
কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস বলেন, কেন এতদিন ধরে ওই গর্ত মেরামতি করা হল না? কার গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের পুরুলিয়া-চাণ্ডিল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুকেশ কুমার এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বলেন, জাতীয় সড়কের নীচে এই ধরনের ধস সাধারণত নামে না। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে। এদিন দুপুরে ওই গর্ত মেরামতি করা হয়। সাধারণ মানুষের দাবি, আগে যদি এই মেরামতি করা হতো তাহলে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হতো না। •