সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ রেখেই পিঠটান দিয়েছিলেন গুণধর স্বামী। ঘরে পড়ে ছিল ছ’ বছরের শিশুকন্যা। এই ঘটনার চারদিন পর শ্বশুরবাড়িতে এসে সহানুভূতির নাটক করতে গিয়েছিলেন। তা করতে গিয়েই পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি। গুণধর স্বামী আবার পেশায় সমাজ গড়ার কারিগর, অর্থাৎ শিক্ষক। এই ঘটনায় ছিছিক্কার পড়ে গিয়েছে প্রতিবেশীদের মধ্যে। শিক্ষকের শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীরাই তাঁকে আটকে রেখে পুলিসের হাতে তুলে দেন। ঘাটাল থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামীর নাম গণপতি পোড়ে। তিনি ঘাটাল থানার একটি নামী স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে বধূহত্যার একটি মামলা রুজু হয়েছে। সেই অভিযোগেই ওই শিক্ষককে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে পুলিস। এদিন তাঁকে ঘাটাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতের ১৪ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেন।
গণপতিবাবুর বাড়ি ঘাটাল থানার সোয়াই গ্রামে। কিছুদিন হল তিনি ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুশপাতাতে একটি বাড়িতে স্ত্রী রিঙ্কু পোড়ে (৩০) এবং বছর ছয়েকের এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। গত ১৩ জুন রাতে ওই ভাড়াবাড়ির একটি ঘর থেকেই রিঙ্কুদেবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিস জানায়, ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর পুলিস পৌঁছনোর আগেই কন্যা সন্তানকে ফেলে রেখে ওই রাতেই শিক্ষক বেপাত্তা হয়ে যান।
রিঙ্কুদেবীর বাপের বাড়ি আরামবাগ থানার ডহরকুণ্ডুতে। ঘটনার পরের দিনই গৃহবধূর বাবা সুজিত বাগ ঘাটাল থানায় গণপতিবাবুর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও বধূহত্যার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেন। সুজিতবাবু বলেন, তাঁর মেয়ের উপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হতো। মেয়ে একাধিকবার সেসব কথা বাপের বাড়ির লোকজনকে ফোনে জানিয়েছিলেন। সুজিতবাবুর অভিযোগ, ১৩ জুন রাতে তাঁর মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রিঙ্কুদেবীর বোন টিঙ্কু বাগ বলেন, দিদি মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই কুশপাতা শহরে একটি ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে জামাইবাবুর সঙ্গে প্রচুর ঝগড়াঝাটি হয়। যে ফ্ল্যাটটি জামাইবাবু কিনবে বলে চূড়ান্ত করেছিলেন, সেই ফ্ল্যাটটি খুব ঘিঞ্জি। ভালো ডাইনিং রুম ও কিচেন ছিল না। দিদির ওই ফ্ল্যাট কেনাতে একেবারেই মত ছিল না। সেই কারণে দিদির উপর শারীরিক অত্যাচার করে খুন করা হয়।
টিঙ্কু বলেন, গত সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ হঠাৎ জামাইবাবু আমাদের এলাকায় পৌঁছে কাঁদতে শুরু করেন। তারপরই তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। আমাদের প্রতিবেশী গ্রামবাসীরাই শিক্ষককে পুকুর থেকে তুলে আনার ব্যবস্থা করেন। ডহরকুণ্ডু গ্রামের বাসিন্দারা গণপতিবাবুর ওই ‘নাটক’ দেখে একটু ভয়ও পেয়ে যান। কারণ হঠাৎ করে ওই শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা অন্য কোনও ঘটনা ঘটালে পুলিস কেসে জড়িয়ে পড়তে পারেন ওই গ্রামের বাসিন্দারাও। সেজন্যই সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানার পুলিসকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিস না আসা পর্যন্ত গণপতিকে গ্রামেই আটকে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিস এসে পৌঁছলে শিক্ষককে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে পরে গ্রেপ্তার করে।