নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ‘নয়ছয়ের’ অভিযোগ। আজ, সোমবার জলপাইগুড়িতে আঞ্চলিক পিএফ কমিশনারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে। থাকবেন তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি তথা দলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইক। তাঁর অভিযোগ, বহু বাগান চা শ্রমিকদের পিএফের টাকা ঠিকমতো জমা করছে না। অথচ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ। কতগুলি বাগান চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নিয়ে ‘নয়ছয়’ করছে, তার তালিকা চেয়ে সোমবার জলপাইগুড়িতে আঞ্চলিক পিএফ অফিস ঘেরাও করা হবে।
যদিও এনিয়ে পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েননি বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তাঁর প্রশ্ন, যেসব বাগান চা শ্রমিকদের পিএফের টাকা জমা দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ এফআইআর করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? মনোজের দাবি, চা শ্রমিকদের পিএফ নয়ছয় হয়ে থাকলে এর সঙ্গে তৃণমূলের লোকজন জড়িত।
এদিন কিছুটা সুর বদলালেও গত কয়েক মাসে জলপাইগুড়িতে আঞ্চলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনারের অফিসে এসে চা শ্রমিকদের পিএফ ইস্যুতে সরব হতে দেখা গিয়েছে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদকে। শুধু তাই নয়, জলপাইগুড়িতে পিএফ অফিসে ‘ঘুঘুরবাসা’ তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন তিনি। পিএফের টাকা তুলে নেওয়া হলেও অনেকক্ষেত্রে প্রকৃত চা শ্রমিক তা জানতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। যা নিয়ে আসরে নেমে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, পিএফ অফিস কেন্দ্রের অধীনে। সেই অফিসে যদি ঘুঘুরবাসা হয়ে থাকে কিংবা চা শ্রমিকদের পিএফের টাকা যদি অন্য কেউ তুলে নিয়ে থাকে, তাহলে দায় কার?
তৃণমূলের চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার বলেন, যদি কোনও বাগান সময়ে চা শ্রমিকের পিএফের টাকা জমা না করে, তা আদায় করা প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষের কাজ। তারা কীভাবে সেই কাজ করবে সেটা তাদের বিষয়।