ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নয়া মোড়। ১৭ বছরের নির্বাসন পর্ব কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে স্ত্রী, কন্যা ও পোষা বিড়াল জেবু। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে সিলেটে অবতরণ করে তারেক রহমানের বিমান। সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছান তিনি। এর পরে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বিশেষ বাসে চেপে তারেক রওনা হন রাজধানীর পূর্বাচলে উদ্দেশ্যে। সেখানে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। খালেদা-পুত্রকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছেন অসংখ্য বিএনপি কর্মী-সমর্থক। সেইসঙ্গে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার চাপে পড়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে। ঢাকায় ফেরার পরে টেলিফোনে ইউনুসের সঙ্গে কথা হয়েছে তথা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের।
গত আগস্টে আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পরে পদ্মাপারের রাজনীতিতে হঠাৎ একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগে ক্রমশ মাথা তোলার চেষ্টা করছে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিগুলি। মৌলবাদী এই শক্তির হাত কার্যত ‘পণবন্দি’ হয়ে পড়েছেন মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সরকার। দেশ পরিচালনার ভার এই নোবেল জয়ীর হাতে থাকলেও আড়ালে ওই মৌলবাদী শক্তি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সেই শূন্য স্থান পূরণ করবে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়ে এদিন রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জপমালা রাণী গির্জায় যান তিনি। সেসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলের নেতা। তাঁর দেশে আসার প্রভাব হবে খুবই ইতিবাচক।’
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। এই অবস্থায় দলের হাল সম্পূর্ণভাবে তারেক রহমান ধরুন, এই দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি আরও জোরাল হয় হাসিনা সরকারের পতনের পরে। তখন থেকে তারককে দেশে ফেরার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন বিএনপি নেতৃত্ব। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এমন সময়ে খালেদা-পুত্রের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড় ঘোরানোর মতো পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশে জামাতের নেতৃত্বে মৌলবাদীদের উত্থান রুখতে তা কতটা কার্যকরী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলবে।