


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ, বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে আরও ১১জন বিচারক এসআইআরের নথি ভেরিফিকেশনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। গত দু’দিন ধরে এই জেলায় ডিস্ট্রিক্ট জজ এবং আরও আটজন অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ এই কাজ করছেন। কিন্তু, বিপুল নথির চাপ থাকায় অতিরিক্ত ১১জনকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ২০জন বিচারককে এসআইআরের নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হল। তমলুকে সার্কিট হাউসে ১১জন, কাঁথিতে ছ’জন এবং হলদিয়ায় তিনজন বিচারক সন্দেহজনক ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন। কিন্তু, তমলুক, হলদিয়া ও কাঁথি আদালত থেকে একসঙ্গে ২০জন বিচারক এসআইআরের কাজ যুক্ত হয়ে পড়ায় মামলার কাজ ভীষণ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ থমকে যাচ্ছে। মামলা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এরফলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি আরও বাড়তে চলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। ভেরিফিকেশনের কাজ যত দীর্ঘায়িত হবে, হয়রানি তত বাড়বে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৬টি বিধানসভা। প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ভোটারের নথি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। কিছুক্ষেত্রে নো ম্যাপিং ভোটারদের শিকড় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যে নথি জমা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে কমিশন। বেশকিছু কাজে এইআরওদের সম্মতি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এজন্য তাঁদের চিঠি দিয়ে কারণ জানতে চেয়েছে জেলা প্রশাসন। এই জেলায় ময়না বিধানসভায় ভূতুড়ে ভোটার এন্ট্রির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো দুই অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হয়েছে। তাই, অনেকে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
কমিশনের পক্ষ থেকে চেকিং চলাকালীন নো ম্যাপিং এবং লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুধু প্রশ্ন তোলা হয়নি, সেগুলি পুনরায় যাচাই করতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এরকম ভোটারদের নথিও যাচাই করবেন বিচারকরা। আবার, সন্দেহজনক ভোটারদের নথিও যাচাই করবেন বিচারকরা। জেলায় এরকম প্রায় এক লক্ষ ভোটার আছেন। সেই এক লক্ষ নথি যাচাইয়ের কাজে নেমেছেন মোট ২০জন বিচারক। গত দু’দিন ধরে তমলুকে সার্কিট হাউসে ছ’জন, কাঁথিতে দু’জন এবং হলদিয়ায় একজন বিচারক এই কাজে যুক্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার আরও ১১জন যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন তমলুকে, চারজন কাঁথিতে এবং দু’জন হলদিয়ায় মহকুমা শাসক অফিসে নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ও দায়রা আদালতে ফাস্ট ট্র্যাক ফার্স্ট কোর্টের বিচারক শিবকুমার ঘোষ যাবতীয় জরুরি এবং জামিন সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে রয়েছেন। তবে, সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। একসঙ্গে একাধিক কোর্ট ফাঁকা থাকায় ট্রায়াল হচ্ছে না। বিভিন্ন মামলার আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দিচ্ছেন। হলদিয়া এবং কাঁথি কোর্টেও একই ছবি। জেলায় প্রায় এক লক্ষ নথি ভেরিফিকেশনের জন্য রয়েছে। বিপুল সংখ্যক নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাচাইয়ের কাজ সারতে বিচারক সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
জেলায় খসড়া ভোটার লিস্ট প্রকাশের সময় ১লক্ষ ৪১হাজার ৯৩৬ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ২৭১৯জন ভোটার লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিস গ্রহণ করেননি। ওই ভোটারদেন নাম তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। এর বাইরে নথি নিয়ে সমস্যা দেখা যাওয়া ভোটারদের নাম তালিকায় থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে বিচারকদের মতামতের উপর।