Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলমহলে পরিচিত গাছের পাতাই সারিয়ে তুলতে পারে ত্বকের রোগ

কাঁটা বিশল্যকরণী পাতার নির্যাস ত্বকের ইনফেকশন রোধে কার্যকরী। নতুন গবেষণায় এই গাছের উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

জঙ্গলমহলে পরিচিত গাছের পাতাই সারিয়ে তুলতে পারে ত্বকের রোগ
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ‘আপনার এই নিষ্কলঙ্ক ত্বকের গোপন রহস্য কী?’ চিত্রতারকার এরকম প্রশ্নের জবাবে হামেশাই বলে থাকেন নানা প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ মিশ্রণের কথা। কিন্তু আমাদের জঙ্গলে, বাড়ির উঠোনে জন্মানো কাঁটা বিশল্যকরণী যে নিষ্কলুষ ত্বক দিতে পারে তা জানেন কজন? ত্বকের ইনফেকশনের জন্য অন্যতম দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলে স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস। তার বংশবিস্তার রোধ করতে সক্ষম কাঁটা বিশল্যকরণী পাতার নির্যাস। বিষ্ণুপুর রামানন্দ কলেজের অধ্যাপক সরোজ বল্লভের গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ইতিমধ্যে তিনি সেই গবেষণাপত্র জমা দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন। সরোজবাবু বলেন, স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস একটি গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া। এটি মূলত ত্বক ও উর্দ্ধ শ্বাসনালিতে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি খুব একটা ক্ষতি করে না। কিন্তু ত্বকে কেটে গেলে ক্ষতস্থানে পৌঁছে দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং সংক্রমণ ঘটায়। ওই ব্যাকটেরিয়ার প্রতিকারে নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে। কিন্তু আজকাল ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের কারণে বহু অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। সেক্ষেত্রে কাঁটা বিশল্যকরণী পাতার নির্যাস (বারলেরিয়া লুপুলিনা) স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়ার বায়োফিল্ম প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এটাই আমার গবেষণার মূল বিষয়।  

Advertisement

সরোজবাবু বলেন, আমরা রামায়ণে পড়েছি, লক্ষ্মণকে বাঁচাতে হনুমান পাহাড় থেকে কাঁটা বিশল্যকরণী গাছ আনার গল্প। এই গাছ জঙ্গলমহল এলাকায় বহু বাড়িতেও দেখা যায়। এখনও অনেকে কেটেছড়ে গেলে ওই পাতার নির্যাস লাগিয়ে দেন। কিন্তু ওই পাতায় কী এমন উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়। সেটা ভাবতে গিয়েই কাঁটা বিশল্যকরণীর পাতা নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হই। ওই গাছের পাতা সংগ্রহ করে কলকাতায় একাধিক নামী গবেষণাগারে পরীক্ষা করে স্টেফাইলোকক্কাসের বংশবৃদ্ধি ঠেকানোর উপাদান পাওয়া গিয়েছে। যা ফোঁড়া থেকে ব্রণ সহ ত্বকের নানা ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করবে। শুধু তাই নয়, কাঁটা বিশল্যকরণীর পাতায় ক্যানসাররোধী উপাদানও নজরে এসেছে। তবে এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।  
বিষ্ণুপুর রামানন্দ কলেজের শারীরবিদ্যার অধ্যাপক সরোজ বল্লভ গত কয়েকবছর ধরে কাঁটা বিশল্যকরণী নিয়ে কাজ করছেন। ওই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম বারলেরিয়া লুপুলিনা। পাতার নির্যাস থেকে পাওয়া উপাদান কীভাবে স্টেফাইলোকক্কাসের মতো ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার রুখতে সাহায্য করে সরোজবাবু তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে ষষ্ঠ রিজিওনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কংগ্রেস ২০২৩-২৪’-এ সেরা হয়েছেন। সম্প্রতি মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পিএইচডি শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। 
সরোজবাবু বলেন, ঝাড়গ্রাম সাধু রামচাঁদ মুর্মু ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলার চন্দ্রদীপা ঘোষের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করেছি। বোস ইনস্টিটিউট সহ একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ক্রম পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। শিবপুর বোটানিকেল সার্ভে অব ইন্ডিয়া থেকে প্ল্যান্ট অনুমোদিত হয়েছে। আগামী দিনে এনিয়ে আরও গবেষণার ইচ্ছা রয়েছে।   নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ