সংবাদদাতা, পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই জেলায় একবছরে আড়াই থেকে তিন হাজার নাবালিকার বাল্যবিবাহ হয়। তার মধ্যে ২৩ শতাংশ কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তবে যে হারে নাবালিকার বিয়ে হয়, তার অনেক কম খবর পৌঁছয় প্রশাসনের কাছে। ফলে এই জেলায় নাবালিকার বিয়ে বন্ধের বিষয়টি প্রশাসনের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাল্যবিবাহ রুখতে শনিবার বৈঠক করল জেলার আইনি সহায়তা কেন্দ্র। এদিন বালুরঘাটের রবীন্দ্রভবনে আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তথা ডিস্ট্রিক্ট জাজ মানস বসু, জেলাশাসক, পুলিস সুপার এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক হয়। জেলা পরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধিদের নিয়েও বৈঠক হয়। বাল্যবিবাহ যাতে কোনওভাবে না হয়, সেজন্য বৈঠকে পুরোহিত এবং ইমামদেরও সতর্ক করেছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ মুক্ত জেলা করার টার্গেট নিয়েছে প্রশাসন।
জেলা আইনি পরিষেবা কেন্দ্রের সম্পাদিকা কেয়া বালা বলেন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বাল্যবিবাহ একটা জলন্ত ইস্যু। এই জেলায় ২০২৫ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ মুক্ত গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তথা ডিস্ট্রিক্ট জাজ এবং জেলাশাসক, এসপি এবং সমস্ত প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এদিন আলোচনা সভা হয়েছে। এই সভায় জনপ্রতিনিধি, পুরোহিত এবং ইমামদের ডেকেও সচেতন করা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় একবছরে আড়াই থেকে তিন হাজার চাইল্ড ম্যারেজের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে ‘টিনেজ প্রেগন্যান্সির’ হারও ভাল রয়েছে। বাল্যবিবাহ রুখতে তাই নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় অল্প বয়সে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। জেলার সব থানা এলাকা থেকে প্রতিদিনই নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরিও হচ্ছে থানায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নাবালিকারা বিয়ে করে নিচ্ছে। অনেক সময় আবার প্রেমের ফাঁদে ফেলে নাবালিকাদের ভিনরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশাসন কঠোর হাতে নাবালিকাদের বিয়ে ও পাচার রুখতে উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএমের সংযোজন, আমাদের জেলায় ‘প্রত্যয়ী’ নামে একটি পোর্টাল রয়েছে। আশা করছি, সবাই মিলে কাজ করলে এই সমস্যা দূর করতে পারব।