সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবার কৌশিকী অমাবস্যায় হোটেলগুলি তিনদিনের প্যাকেজে রুম ভাড়া নিতে বাধ্য করতে পারবে না। কেউ একদিনের জন্য চাইলে তাঁকেও থাকতে দিতে হবে। ভাড়াও হতে হবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। গত ৬আগস্ট প্রশাসনিক বৈঠকে এব্যাপারে হোটেল অ্যাসোসিয়েশনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জেলাশাসক বিধান রায়। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ জেলাশাসক। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন ছদ্মবেশে হোটেলে ভাড়া নিতে যাবেন। প্যাকেজ বা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৌশিকী অমাবস্যাই তারাপীঠের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। বামাক্ষ্যাপার এই সাধনাস্থলে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এবার সপ্তাহান্তে শুক্র ও শনিবার এই তিথি পড়েছে। পরেরদিন ববিবার থাকায় এবার পাঁচ লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে আশা প্রশাসনের। অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এইসময় রুম ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনদিনের প্যাকেজ চালু করেছে হোটেলগুলি। কেউ এক বা দু’দিনের জন্য ভাড়া নিতে এলেও তাঁদের তিনদিনেরই ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিভিন্ন হোটেল খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, সিঙ্গেল এসি রুম। যেখানে অন্যান্য দিন ভাড়া ৮০০টাকা। সেই রুমই এখন ছ’হাজার টাকা ভাড়া। একটি হোটেলে ফোন করা হলে কর্মীরা বলেন, ‘এইসময় ভাড়া একটু বেশি। একদিন বা দু’দিন থাকুন ৬০০০টাকা লাগবে। এক হাজার টাকা কমানো যেতে পারে।’ হোটেল অনুযায়ী ডাবল বেডরুমের ভাড়া তিনদিনের প্যাকেজে হিসেবে ১২-১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এক হোটেল ম্যানেজার বলেন, যাঁরা দু’মাস আগে হোটেল বুকিং করেছেন তাঁদের কাছ থেকে এই ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কেউ কৌশিকী অমাবস্যার দিন রুমভাড়া নিতে চাইলে প্রতিদিন ১০হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। এই হিসেবই বলে দিচ্ছে, বিলাসবহুল হোটেলগুলির ভাড়া কোন জায়গায় পৌঁছেছে। অভিযোগ, কেউ রুম ভাড়া চাইলে সোজাসুজি বলে দেওয়া হচ্ছে ‘হাউসফুল’। আগামী রবিবার পর্যন্ত সব রুমই বুকড। হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, তারাপীঠে হোটেলগুলির ১০০শতাংশ রুম বুক হয়ে গিয়েছে। কোথাও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। কাউকে তিনদিনের প্যাকেজেই থাকবে হবে বলে জোর জবরদস্তি করা হচ্ছে না যে। পর্যটকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো থাকতে পারবেন। কোনও হোটেল অতিরিক্ত ভাড়া নিলে অ্যাসোসিয়েশন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটকদের একাংশ বলছেন, কিছু হোটেল তিনদিনের প্যাকেজ নিতে বাধ্য করছে না ঠিকই কিন্তু একদিনের যা ভাড়া বলছে তা অন্যান্য দিনের কয়েকগুণ বেশি। কলকাতার পর্যটক রামেশ্বর মণ্ডল বলেন, কয়েক মাস আগে তারাপীঠে পরিবার নিয়ে এসেছিলাম। তখন এসি রুম ১৫০০টাকা করে ভাড়া নিয়েছিল। এখন অনেক বেশি টাকা চাইছে। প্রশাসন নির্দেশ দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। প্রশাসনের কড়া হাতে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। জেলাশাসক স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ছদ্মবেশে হোটেলগুলিতে রুম ভাড়ার জন্য যাবেন প্রশাসনের লোকজন।