নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভাদ্রের অমাবস্যা তিথিতে দেবী কৌশিকী অশুভ শক্তি নাশ করেন ও শুভ শক্তির সঞ্চার ঘটান। তাই বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তমলুক শহরে সিএমওএইচ অফিস লাগোয়া বাসস্ট্যান্ডে তারামায়ের পুজো ও দশমহাবিদ্যা যজ্ঞের উদ্বোধন হল। তারা তঠস্থ সেবা শক্তির উদ্যোগে ১২বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। এবার ২১-২৪আগস্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটা করে পুজো ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে অমাবস্যা তিথিতে তারামায়ের পুজো ও দশমহাবিদ্যা যজ্ঞ শুরু হবে। তারাপীঠ থেকে আসা ১৬জন তন্ত্রসাধক পুজো ও হোমযজ্ঞে অংশ নেবেন। তিন কুইন্টাল বেলকাঠ ও ৪১কেজি ঘি দিয়ে সারারাত ষোড়শ উপাচারে তন্ত্রমতে পুজো ও হোমযজ্ঞ হবে। সূর্য ওঠার আগেই তা শেষ হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। কণ্ঠশিল্পী শিলাদিত্য চক্রবর্তী ও মধুবন চক্রবর্তী প্রথমদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২২আগস্ট ঢাকিসম্রাট বলে খ্যাত গোকুলচন্দ্র দাস তাঁর ঢাকের কেরামতি দেখাবেন। উদ্যোক্তারা শিশুদের নিয়ে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছেন। ২৩ ও ২৪তারিখ কলকাতার একঝাঁক নামী শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ছোটপর্দার অভিনেতা থেকে শুরু করে ‘সারেগামাপা’ ও ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
২৩আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ভক্তদের সবাইকে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ভোগে থাকছে বাসন্তী পোলাও, চানা পনির, পায়েস ও মিষ্টি। প্রায় ১০হাজার ভক্তকে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।
পুজোর বাজেট ১৭লক্ষ টাকা। ১২বছর আগে পটেই দেবীর পুজো হতো। পরে ভক্তদের অনুরোধে প্রতিমা গড়া শুরু হয়। কুমোরটুলির শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল প্রতিমা গড়েছেন। পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা তথা তমলুক পুরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সৌমেন চক্রবর্তী বলেন, আমরা কয়েকজন ১২বছর আগে কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তারামায়ের পুজো ও হোমযজ্ঞ শুরু করেছিলাম। প্রতিবছর এই পুজোয় ভক্তদের ভিড় বাড়ছে। পাঁচদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ২২তারিখ তারাপীঠ থেকে আসা ১৬জন তন্ত্রসাধক তারামায়ের পুজো ও যজ্ঞে অংশ নেবেন। এই পুজো দেখতে বহু ভক্ত উপস্থিত থাকবেন।-নিজস্ব চিত্র