সংবাদদাতা, তপন: ছয় বছরেও শেষ হলো না তপন দিঘির সংস্কার! ফলে ৩৭ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে অনেক প্রশ্ন। ২০১৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তপন দিঘির সৌন্দর্যায়ন এবং সংস্কারের জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালেও এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ছ’বছর ধরে সংস্কার চললেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এক সময় প্রায় ৮৪ একর জুড়ে বিস্তৃত ছিল ঐতিহ্যবাহী তপন দিঘি। কিন্তু চারদিকে সীমানা প্রাচীর দেওয়ায় দিঘির এলাকা অনেকটাই ছোট হয়েছে। জলাশয়ের ভিতরে কচুরিপানা ও আগাছা জমে থাকার ফলে জল ধারন ক্ষমতাও এখন কম। আশ্চর্যের বিষয়, জলাশয়ের গভীরতা বৃদ্ধির কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন বছর কার্যত কোনও কাজই চোখে পড়েনি।এবিষয়ে স্থানীয় কৃষক রিপন কুজুর বলেন, দিঘি থেকে পশ্চিম মাঠে চাষের জমিতে জলসেচের জন্য দুটি কেন্দ্র রয়েছে। আমি তার দায়িত্বে রয়েছি। দিঘিতে জল কম থাকায় পাম্পের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ জল তুলে চাষের জমিতে দিতে হয়। দিঘির গভীরতা বাড়িয়ে বর্ষার জল ধরার ব্যবস্থা করলে আরও বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ করা যেত।স্থানীয় বাসিন্দা তথা শিক্ষক অলোক সরকারের মন্তব্য, ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পে দিঘি সংস্কারের কথা ঘোষণা হলেও জল ধরার ব্যবস্থা তেমন করাই হয়নি। ছ’বছরেও সংস্কার শেষ হয়নি। গত তিন বছরে কী কাজ হয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তপন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণা বর্মন বলেন, দিঘি সংস্কারের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার চলছে সেটাই দেখছি। দ্রুত কাজ শেষ করে উদ্বোধন হোক, সেটাই চাই।
সংস্কার না হওয়ায় এভাবেই পড়ে রয়েছে তপন দিঘি। -নিজস্ব চিত্র