নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, বরাবর ভালো রেজাল্ট। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্বভারতী থেকে মাস্টার্স। তারপর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিওরিটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি। রয়েছে নিজের পাঁচটি গবেষণাপত্র। আপার প্রাইমারিতে চাকরি পেয়েছিলেন। এসএসসি দিয়ে চাকরি হয়েছিল নবম-দশমের শিক্ষিকা হিসেবে। কিন্তু, একাদশ-দ্বাদশে পড়ানোর সুযোগ মেলায় সব ছেড়ে শেষেরটায় থিতু হন। এখন সেই চাকরি হারিয়ে কার্যত বাকরুদ্ধ বর্ধমানের কালনা গেটের বাসিন্দা তনুশ্রী সূত্রধর। জলপাইগুড়ির অন্যতম নামী স্কুল ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনে কেমিষ্ট্রির শিক্ষিকা ছিলেন তনুশ্রী। তবে চাকরি বাতিলের তালিকায় নাম থাকলেও কর্তব্যে তিনি অটূট। উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখার ভার পড়েছিল তাঁর কাঁধে। কিছু খাতা দেখা বাকি ছিল। শীর্ষ আদালতের রায়ে চাকরি নেই জেনেও শুক্রবার রাত জেগে ওই খাতা দেখা শেষ করে জমা দিয়ে এলেন শনিবার। এদিন ময়নাগুড়িতে হেড এগজামিনারের কাছে ওই খাতা জমা দিয়ে আসেন তিনি। চোখের জল অবশ্য বাঁধ মানছে না।
তনুশ্রীর প্রশ্ন, যোগ্য-অযোগ্য বিচার না করে কেন সবাইকে এক ছাঁচে ফেলে দেওয়া হল? শিক্ষার প্রতিটি ধাপে আমার রেজাল্ট ভালো। এন্ট্রাস দিয়ে বিশ্বভারতীতে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছি। তিন-তিনটে চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আপার প্রাইমারির পর বেলাকোবার একটি স্কুলে নবম-দশমে পড়ানোর চাকরি হয়েছিল। একাদশ-দ্বাদশে পড়ানোর সুযোগ মিলতেই লো স্কেলের বেতনের চাকরিতে যোগ দিইনি। যোগ্যতা না থাকলে কি এতগুলো চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব?
জলপাইগুড়ি শহরের আনন্দপাড়ার বাসিন্দা তনুশ্রী। দীর্ঘদিন ভাড়াবাড়িতে কাটিয়েছেন। গতবছর ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি বানান। মাসে ইএমআই ৩২ হাজার টাকা। কীভাবে ওই টাকা জোগাড় হবে বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। বলেন, আমার সাড়ে তিন বছরের ছেলে রয়েছে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল ওর ভবিষ্যৎ। ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারব কি না জানি না। তাছাড়া বর্ধমানের বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা। ভাই ওড়িশায় একটা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে। আমার স্বামীও প্রাইভেট জব করে। আমার চাকরিটা পরিবারের কাছে একটা ভরসার জায়গা ছিল। আগামী মাস থেকে কী হবে জানি না।
তনুশ্রীর দাবি, কোথায় কী দুর্নীতি হয়েছে জানি না। আমি আমার মতো পরীক্ষা দিয়েছি। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছি। তাহলে আমাকে চাকরি খোয়াতে হল কেন? এদিকে, জলপাইগুড়ি ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনে একাদশ-দ্বাদশের কেমিষ্ট্রির একমাত্র শিক্ষিকা ছিলেন তনুশ্রী। ফলে এরপর কীভাবে ওই ক্লাস হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। -নিজস্ব চিত্র