


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দুই পায়ের হাঁটু থেকে নীচের অংশ নেই। ছোটবেলায় ইলেক্ট্রিক শক খেয়ে এমনভাবেই বিকলাঙ্গ হয়ে গিয়েছেন তমলুক থানার নৈছনপুর গ্রামের কুশধ্বজ বাগ। কোনো রকমে টোটো চালিয়ে সংসার চালান। কিস্তিতে পুরনো টোটো কিনেছেন। স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে টোটোর কিস্তি মেটান। এ হেন কুশধ্বজের স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট আচমকা ফ্রিজ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বৃহস্পতিবার কুশধ্বজ ও তাঁর স্ত্রী সুষমা দু’জনে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে অফিসাররা যা জানালেন তা শুনে তাঁদের মাথায় বাজ পড়ার অবস্থা। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং এরাজ্যের কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ সুষমার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য একযোগে ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়েছে। সাইবার প্রতারকরা ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে। যেকারণে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম থানা থেকে ওই দম্পতির হাতে প্রিন্ট কপি দেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২৪ ও ২৮ফেব্রুয়ারি চার রাজ্যের পুলিশ ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল। তার ভিত্তিতেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ। সুষমার অ্যাকাউন্টে আট হাজার টাকা ছিল। সেই টাকার একটা অংশ তুলে টোটো কেনার কিস্তি মেটানোর জন্য ব্যাংকে গিয়েছিলেন সুষমা। তারপর জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টে লেনদেন হবে না। কারণ, সেটি বন্ধ করে দেওয়া আছে।শুধু কুশধ্বজ নয়, প্রতিদিন তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় অন্তত ১০থেকে ১৫জন আসছেন। নিজেদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন আটকে যাওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই গ্রাহকদের তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। সেইমতো ওই গ্রাহকরা আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, কীভাবে অ্যাকাউন্ট নম্বর সাইবার প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে, সেটা তাঁরা জানেন না। অ্যাকাউন্ট ক্লোজ হওয়ার পর তাঁরা বিষয়টি জানতে পারছেন। হলদিয়ায় এধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। মহিলাদের জিরো ব্যালেন্সের অ্যাকাউন্টে এধরনের ঘটনার হার বেশি।
বৃহস্পতিবার নিজের টোটোতে স্ত্রীকে বসিয়ে তমলুকে পুলিশ সুপারের অফিস ক্যাম্পাসে অবস্থিত সাইবার ক্রাইম থানায় এসেছিলেন কুশধ্বজ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ইলেক্ট্রিক শক খেয়ে হাঁটু থেকে জোড়া পা কেটে বাদ গিয়েছে। যেকারণে শরীরে উচ্চতাও কম। হাঁটুর উপর ভর দিয়ে চলাফেলা করেন। কুশধ্বজ বলেন, চার রাজ্যের পুলিশ আমার স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। কীভাবে এই অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারকরা পেল জানি না। আমরা প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছি। সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ আমাদের হাতে একটা প্রিন্ট কপি দিয়েছে। তাতে কোন কোন রাজ্যের পুলিশ ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে সেটা উল্লেখ আছে। আমাদের মতো সাধারণ গরিব মানুষ এই সমস্যায় পড়লে আমরা যাব কোথায়?-নিজস্ব চিত্র