নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দলীয় প্যানেলে নাম না থাকা সত্ত্বেও তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ডিরেক্টর নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলেন শহর তৃণমূল সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া। সোসাইটিতে মোট পদ সংখ্যা ১২টি। তাতে তৃণমূলের মনোনয়ন জমা করলেন ১৩জন। সোম ও মঙ্গলবার মনোনয়ন জমার দিন ধার্য ছিল। সোমবারই রাজ্য তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বক্সির সুপারিশ করা ১২জনের তালিকা তমলুকে পৌঁছে দিয়েছিলেন সমবায় সেলের রাজ্য নেতা আশিস চক্রবর্তী। সেই তালিকায় নাম থাকা সকলেই মনোনয়ন জমা করেছেন। মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলের পাঠানো তালিকায় নাম না থাকলেও শহর তৃণমূল সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া ডিরেক্টর পদে মনোনয়ন জমা করেন। তাঁর মনোনয়ন ঘিরে যাতে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি না হয় সেজন্য বিকেলে ওই সোসাইটিতে হাজির হন জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়। তাঁর উপস্থিতিতে বিকেল ৩টেয় একেবারে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন জমা দেন চঞ্চলবাবু।
এদিন তৃণমূলের সমবায় সেলের রাজ্য নেতা আশিস চক্রবর্তী বলেন, চঞ্চল খাঁড়া মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ১২টি আসনে মোট ১৩টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। চঞ্চলবাবু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্য একজন প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। কে সরবেন, সেটা ওঁরা নিজেরা বসে ঠিক করবেন।
গত ১৮মে তমলুক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ডেলিগেট নির্বাচন হয়েছে। মোট ৫৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৫৫টিতে জয়ী হয়। এছাড়া বিজেপি দু’টি এবং নির্দল প্রার্থী হয়ে তৃণমূল নেতা চন্দন ঘোড়াই জয়ী হন। ডেলিগেট নির্বাচনের পর ডিরেক্টর নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। মোট ১২টি পদ। সোম ও মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনক্ষণ ধার্য ছিল। দলের সুপারিশমতো ডিরেক্টর পদে ১২জনের তালিকা সোমবার তমলুকে চলে আসে। তালিকায় পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়, ভাইস চেয়ারপার্সন লীনা মাভৈ, কাউন্সিলার চন্দন প্রধান ও সুব্রত রায় প্রমুখের নাম রয়েছে।
যদিও শহর তৃণমূল সভাপতি চঞ্চলবাবু ওই কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ডিরেক্টর হওয়ার পর সোমবার থেকেই তদ্বির শুরু করেন। মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে তালিকা রদবদলের চেষ্টা হয়। শেষ মুহূর্তে জেলা সভাপতিকে সাক্ষী রেখে তিনি মনোনয়ন জমা করেন। বিষয়টি নিয়ে দলের অনেকেই বেজায় ক্ষুব্ধ। কারণ, চঞ্চলবাবু শহর সভাপতি ছাড়াও পুরসভার কাউন্সিলার। তিনি তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান। এতগুলি পদে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন শহরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমবায়ে ডিরেক্টর করা হবে, তা নিয়ে দলের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন।
পুরসভার ১০নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার পার্থসারথী মাইতি বলেন, দলের শহর সভাপতি প্যানেলের বাইরে গিয়ে মনোনয়ন জমা করলেন। এত পদে থাকার পর আরও চাই। এঁদের কাছ থেকে সাধারণ কর্মীরা কী শিখবেন? চঞ্চলবাবু বলেন, দলের জেলা সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে আমি ডিরেক্টর নির্বাচনে মনোনয়ন জমা করেছি। আশিস চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত তালিকা রদবদল হবে বলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আঁচ পাচ্ছিলাম। শেষমেশ দলের সবুজ সংকেত পেয়ে আমি মনোনয়ন জমা করেছি। ১৩জনের মধ্যে একজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। সেটা নিয়ে আলোচনা হবে।