Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচন, দ্বন্দ্বে দীর্ণ তৃণমূল, রণেভঙ্গ পদ্মের

তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচনে রণে ভঙ্গ দিল বিজেপি। আগামী ১৮মে তমলুক শহরের নাইট ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ওই সোসাইটির নির্বাচন হবে।

তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচন, দ্বন্দ্বে দীর্ণ তৃণমূল, রণেভঙ্গ পদ্মের
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচনে রণে ভঙ্গ দিল বিজেপি। আগামী ১৮মে তমলুক শহরের নাইট ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ওই সোসাইটির নির্বাচন হবে। সেখানে মোট ৫৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র ২৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ৩০টি আসনে প্রার্থী খুঁজে পায়নি পদ্মপার্টি। ভোটের আগেই একপ্রকার বোর্ড দখল করে নিয়েছে তৃণমূল। শাসক দলের ১৪জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। সিপিএমও এখানে লড়াইয়ে নেই। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই শহরে চর্চার বিষয়। শহর তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন ঘোড়ই এই ভোটে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। গত ৪ ও ৫মে ওই সোসাইটির নির্বাচন উপলক্ষ্যে মনোনয়ন তোলা ও জমা নেওয়া হয়। মোট আসন সংখ্যা ৫৮টি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়, ভাইস চেয়ারপার্সন লীনা মাভৈ, শহর তৃণমূল সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া, কাউন্সিলার বিমল ভৌমিক ও সুব্রত রায়, চন্দন প্রধান সহ অনেকেই আছেন। একইসঙ্গে বিজেপির জেলা কোষাধ্যক্ষ আনন্দ নায়েক, নগর মণ্ডলের সহ সভাপতি মান্তু হাইত, সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ বেরার মতো শহরের প্রথমসারির নেতারা আছেন।ওই ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ১৮ মে ভোটের আগে শহরে নেতাদের মধ্যে প্রবল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। শহর তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন ঘোড়াই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তিনি ধারিন্দা-ডহরপুর জোন থেকে নির্দল প্রার্থী হয়েছেন। ওই জোন থেকেই দলের প্রার্থী তালিকায় আছেন তৃণমূলের শহর সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া, জেলা জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি বিমল ভৌমিক প্রমুখ। তাঁরা দু’জন পুরসভার কাউন্সিলারও। 

Advertisement

চন্দন ঘোড়ইকে প্রার্থী না করায় বিস্ফোরক পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দেবশ্রী মাইতি। সোমবার তিনি বলেন, প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলীয় মিটিংয়ের সময় কাউন্সিলারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে বলা হয়েছিল। অথচ, বাস্তবে সেটা করা হয়নি। শহরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু নেতা লোভী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। তাঁরা ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দিতে ব্যস্ত। তাঁরা দলের ক্ষতি করছেন। এর বিরুদ্ধে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল লড়বে। এই ভোটে নির্দল প্রার্থী চন্দন ঘোড়াইয়ের পাশে থাকবে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় একশো বছর আগে তমলুক শহরের বর্ধিষ্ণু বেশকিছু পরিবার ওই সোসাইটি তৈরি করেছিলেন। বর্তমানের তার পরিধি তমলুক শহর ও গ্রামীণ ছাড়াও নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, পাঁশকুড়া, কোলাঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়েছে। ১৪০০-র বেশি সদস্য। ২০১৯ সালে ওই সোসাইটির বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর দু’বার সমবায় দপ্তর মনোনীত বোর্ড ‌এবং শেষে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার ছ’বছর পর ওই সোসাইটিতে ভোট হচ্ছে। বিজেপির জেলা কোষাধ্যক্ষ আনন্দ নায়েক বলেন, আমরা মোট ২৮টি আসনে লড়াই করছি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, আমরা ওই সোসাইটির ভোটে অংশগ্রহণ করিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের শহর সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া বলেন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দন ঘোড়ইকে দল প্রার্থী করেনি। তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে চন্দনবাবু বলেন, আমাকে প্রার্থী করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেওয়া হয়নি। তাই আমি নির্দল প্রার্থী হয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ