Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক হাসপাতালের গাছ-মাটি চুরি, চাঞ্চল্য, সাসপেন্ড সিকিউরিটি এজেন্সির সুপারভাইজার সহ ৪

তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে গাছ ও মাটি চুরির ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

তমলুক হাসপাতালের গাছ-মাটি চুরি, চাঞ্চল্য, সাসপেন্ড সিকিউরিটি এজেন্সির সুপারভাইজার সহ ৪
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে গাছ ও মাটি চুরির ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সিকিউরিটি এজেন্সির সুপারভাইজার সহ চার রক্ষীর উপস্থিতিতে চুরির অভিযোগ ওঠায় তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় তমলুক থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর নেপথ্যে কলেজের কেউ কেউ জড়িয়ে রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। চুরির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল শর্মিলা মল্লিক। পাশাপাশি, গোটা বিষয়টি পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএফকেও জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার গাছ ও মাটি চুরি নিয়ে মেডিকেল কলেজে উচ্চ পর্যায়ের মিটিং হয়। সেখানে প্রিন্সিপাল, সুপার, অ্যাডিশনাল মেডিকেল সুপার, তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৪টি পুরনো গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। ওইসব গাছ কোনওরকম অসুবিধা তৈরি না করা সত্ত্বেও সেগুলি কেটে ফেলা হয়েছে। এর আগে দু’টি গাছ কাটার পর বনদপ্তর থেকে অনুমতি আদায় করা হয়েছিল। সেই অনুমতির কপি দেখিয়ে আরও ১২টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি প্রিন্সিপালের নজরে আসার পরই তিনি থানায় অভিযোগ জানান। ঘটনাটি বনদপ্তরেরও নজরে আনা হয়। তারপরই মঙ্গলবার এনিয়ে উচ্চ পর্যায়ের মিটিং হয়।
হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি বড় পুকুর আছে। সম্প্রতি, মাছচাষের জন্য সেটি লিজে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুকুরপাড়ে সৌন্দর্যায়নের জন্য বরাত দেওয়া হয়েছে। এজন্য পুকুরে মাটি কাটা হয়েছে। আবার সেই মাটি বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পুকুরপাড়ে একটি মাটি কাটার মেশিনও পড়ে আছে। কোনওরকম ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই মাটি কেটে হাসপাতালের ভিতর থেকে বিক্রি করায় কর্তৃপক্ষ হতবাক। গাছ ও মাটি চুরির ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সামনে এসেছে। 
এই ঘটনায় জড়িতরা পুলিশকে জানিয়েছে, হাসপাতালের অফিসার পর্যায়ের একজন তাদের এই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া, নিরাপত্তারক্ষীদের সামনেই তারা গাছ কেটেছে। পুকুরপাড় থেকে মাটি সরিয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট ফরেস্ট অফিসার অর্ণব সেনগুপ্ত বলেন, অনুমতি ছাড়াই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাসে গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল বলেন, আগে দু’টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই নথি দেখিয়ে পর পর গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই থানায় জানানো হয়। ডিএফও অফিসেও জানানো হয়েছে। আমরা নিজেরা মিটিং করে এনিয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কর্তব্যরত এজেন্সি নিযুক্ত সিকিউরিটি সুপারভাইজার সহ চারজন নিরাপত্তারক্ষীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে কারা যুক্ত, সেটা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ