Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক হাসপাতাল: এসআইআরে ব্যস্ত সবাই, হচ্ছে না শিবির! রক্তশূন্য ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক, বিপাকে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা

এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রক্তদান শিবির থমকে গিয়েছে।

তমলুক হাসপাতাল: এসআইআরে ব্যস্ত সবাই, হচ্ছে না শিবির! রক্তশূন্য ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক, বিপাকে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রক্তদান শিবির থমকে গিয়েছে। যে কারণে তমলুক মেডিকেল কলেজ, পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি এবং হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার একেবারে ‘ড্রাই’। বি পজিটিভ গ্রুপের মতো প্রচলিত গ্রুপের রক্তেরও আকাল চলছে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তরাও রক্ত পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে বাড়ির লোকজন তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তমলুক মেডিকেলের ব্লাড সেন্টারে ইনহাউস রক্তদান চলছে। এই মুহূর্তে যে কোনও রোগীর জন্য রক্ত নিতে গেলে আগে দাতা আনতে হচ্ছে। দাতা না আনলে রক্ত মিলছে না।

Advertisement

তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারের ইন-চার্জ মেডিকেল অফিসার অনুপম জানা বলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ। আমরা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স সহ সকল কর্মী এবং মেডিকেলের ছাত্রছাত্রী, নার্সিং কলেজ ও স্কুলের ছাত্রীদের মাধ্যমে একটা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার পরিকল্পনা নিচ্ছি। গত ২০দিন ধরে সেভাবে শিবির না হওয়ায় রক্তের সংকট তৈরি হয়েছে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তরাও ফিরে যাচ্ছেন। খুব খারাপ লাগছে।
তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১২০ইউনিট রক্ত লাগে। সবার আগে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্ত রাখা হয়। তারপর চাহিদা অনুযায়ী অন্য রোগীদের রক্ত দেওয়া হয়। হাসপাতাল ছাড়াও নার্সিংহোমের রোগীদের জন্য রক্ত সরবরহ করা হয়। কিন্তু, গত ২০দিন ধরে স্টক বলে কিছু নেই। শিবিরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। সাধারণত যথেষ্ঠ সংখ্যায় শিবির হওয়ায় শীতের সময় রক্তের ঘাটতি হয় না। তমলুক ব্লাড সেন্টার থেকে চিকিৎসক ও কর্মীরা দৈনিক তিন-চারটি জায়গায় শিবিরে যেতেন। নিজেদের গাড়ির অভাব থাকায় ভাড়াও করতে হত। কিন্তু, গত ২০দিনের ছবিটা একদম ভিন্ন। অধিকাংশ দিন একটিও ক্যাম্প হচ্ছে না। যেকারণে রক্তের চাহিদা থাকলেও জোগান নেই। এর ফলে রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকজন চরম সমস্যায় পড়ছেন। অপারেশনের আগে রক্তের জন্য ব্লাড সেন্টারে এলে সবার আগে দাতার নাম জমা করতে হচ্ছে। দাতা ছাড়া রক্ত দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ। সোমবার তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তের জন্য ১৩জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হাজির হয়েছিলেন। ন’জনকে রক্ত দেওয়া হলেও চারজন পাননি। কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা যাবে, তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ব্লাড সেন্টার কর্তৃপক্ষ।
পূর্ব মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ব্লাড সেন্টার একেবারে খালি। প্রতিদিন রক্তদাতা জোগাড় করে ব্লাড সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রক্তের জন্য অসংখ্য ফোন পাচ্ছি। ডোনার জোগাড় করতে হিমশিম অবস্থা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ