নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের বোর্ড গঠনের এক মাসের মধ্যেই সরকারি প্রতিনিধি বদল ঘিরে হইচই শুরু হয়েছে। গত ১১ফেব্রুয়ারি ওই ব্যাঙ্কের বোর্ড গঠন হয়। নবগঠিত বোর্ডের সরকারি প্রতিনিধি হন নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে। নবগঠিত বোর্ডের একটি বোর্ড মিটিংয়ের পরই সরকারি প্রতিনিধি পদে বদল ঘটে। নন্দকুমারের বিধায়কের জায়গায় বোর্ডে সরকারি প্রতিনিধি হন চণ্ডীপুরের তারকা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। ২৮ফেব্রুয়ারি নতুন বোর্ডের দ্বিতীয় মিটিং ছিল। সেই মিটিংয়ে বোর্ডের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন সুকুমার দে। অথচ, তার আগের দিন ২৭তারিখ সোহম চক্রবর্তীকে বোর্ডের গভর্নমেন্ট নমিনি হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সুকুমার দে-র নামে আগেই চিঠি ইস্যু হওয়ায় ২৮তারিখের মিটিংয়ে সোহমকে চিঠি দেওয়া যায়নি।
এনিয়ে তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অনুপকুমার বেরা বলেন, বোর্ডের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে সুকুমার দে-র পরিবর্তে সোহম চক্রবর্তী হয়েছেন। এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। সবটা ব্যাঙ্কের কাছেও স্পষ্ট নয়।
এনিয়ে বিধায়ক সুকুমারবাবু বলেন, আমি এই ব্যাঙ্কে অতীতে পাঁচ বছর সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে ছিলাম। গত ১১ফেব্রুয়ারি বোর্ড গঠনের সময় পুনরায় আমাদের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। আগাম না জানিয়ে এই নিয়োগে আমার নিজের মধ্যেও একটা খটকা লেগেছিল। তারপর বিধানসভায় গিয়ে কানাঘুষো শুনতে পাই, আমাকে সরিয়ে সোহমকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমি ওই ব্যাঙ্কের বোর্ডে থাকার জন্য কারও কাছে সুপারিশ করিনি। আমচকা সরকারি প্রতিনিধি করে তারপর সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটা খুব খারাপ লেগেছে।
২০২৩সালে ৮জুন তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে ব্যাঙ্ক পরিচালনা করা হয়। ২০২৪সালে ৩১জানুয়ারি সরকার মনোনীত একটি প্রশাসক বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ডের অধীনে গত ৮ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি নির্বাচন হয়। মোট ১২জন ডিরেক্টরের মধ্যে তৃণমূলের ১০জন এবং বিজেপির দু’জন নির্বাচিত হন। ১১ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কের বোর্ড গঠন হয়। চেয়ারম্যান হন নন্দকুমারের খঞ্চি শাখা থেকে নির্বাচিত অনুপবাবু। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন সুতাহাটা থেকে নির্বাচিত অংশুমান সর্দার। সেক্রেটারি হন মহিষাদল থেকে ব্যাঙ্কের ভোটে নির্বাচিত তরুণকান্তি মণ্ডল। জেলা পরিষদ মনোনীত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি হন কৃষি ও সেচ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানসকুমার পণ্ডা। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমারবাবু। ২৭ফেব্রুয়ারি তাঁর জায়গায় নতুন সরকারি প্রতিনিধি হলেন সোহম চক্রবর্তী।
নতুন বোর্ড তিনটি মিটিং করেছে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ব্যাঙ্ক কর্মী ও ম্যানেজারদের পে স্কেল বৃদ্ধি পায়। সেইমতো কর্মীদের মাইনে বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। গ্রুপ-ডি কর্মীদের বেতন তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ ম্যানেজারদের মাইনে ১২হাজার পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেইমতো আলোচনা হয়েছে। তবে, ব্যাঙ্ক রিকভারির দিক থেকে গত আর্থিক বছরের তুলনায় পিছিয়ে। এবিষয়ে জোর দিতে হবে বলেও বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।