নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরায় জাল নোট কাণ্ডের অন্যতম এক মাথাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে বাঁকুড়া পুলিস। চক্রের চার পান্ডা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই পাচারকারী গা ঢাকা দিয়েছে। সে জাল নোটের বান্ডিল নিয়ে ভিন রাজ্যে পালিয়ে গিয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। তার খোঁজে পুলিস তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইলের কল লিস্ট পুলিস খতিয়ে দেখছে। ওই চক্রের পান্ডারা কাদের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলত, তা পুলিস জানার চেষ্টা করছে। ধৃতদের যোগাযোগের ‘নেটওয়ার্ক’ সম্পর্কে জানতে পারলে জাল নোট চক্র কতদূর বিস্তৃত, তা জানা যাবে। পাশাপাশি পলাতক দুষ্কৃতী কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারে, সে সম্পর্কেও আভাস পাওয়া যেতে পারে বলে পুলিস কর্তারা মনে করছেন।
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(অপারেশন) মকসুদ হাসান বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চক্রগুলির মতো তালডাংরার ধৃতরা বড় ‘নেটওয়ার্ক’ এখনও পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি বলেই আমাদের অনুমান। তবে তারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তা জানার চেষ্টা চলছে। ওই চক্রের এক মাথা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তার খোঁজ চলছে। লাগাতার পুলিসি অভিযানে কোণঠাসা হয়েই ওই দুষ্কৃতী কোনও গোপন ডেরায় আশ্রয় নিয়েছে।
উল্লেখ্য, তালডাংরা থানার পাঁচমুড়া অঞ্চলের লালবাঁধ গ্রামে দিনের পর দিন জাল নোট ছাপানোর কাজ চললেও পুলিস বা গোয়েন্দারা কিছু জানতে পারেননি। ওই গ্রামের বাসিন্দা দুলাল হাসান মল্লিক ও গোলাম খান তালডাংরা বাজারে ফল কেনার সময় জাল নোট দেওয়ায় স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়ে যায়। পরে তাদের জেরা করে আরও দুই জাল নোট প্রস্তুতকারককে পুলিস গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিস নোট ছাপানোর কাজে ব্যবহৃত প্রিন্টার, একাধিক মোবাইল ফোন ও বেশকিছু ৫০০ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করে। আটক করা মোবাইল ফোনগুলি তদন্তে কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে বলে পুলিস কর্তারা মনে করছেন। ওইসব ফোনের মধ্যে থাকা তথ্য পুলিস বিশ্লেষণ করে দেখছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধরা পড়ার আগে ধৃত চার দুষ্কৃতী হঠাৎ হঠাৎ উধাও হয়ে যেত। অনেক সময় তারা কোথায় যাচ্ছে, সে ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদেরও তারা কিছু জানাত না। তদন্তকারীদের অনুমান, কাউকে কিছু না জানিয়ে ধৃতরা জাল নোট পাচার চক্রের চাঁইদের সঙ্গে দেখা করতে যেত। ভিন জেলার পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও তারা গিয়ে থাকতে পারে বলে পুলিস মনে করছে। পলাতক দুষ্কৃতীর খোঁজে তালডাংরা থানার পুলিস একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে। কিন্তু, তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। সে অন্য রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছে বলে পুলিস মনে করছে। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে পুলিস পলাতক দুষ্কৃতীর সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে। -নিজস্ব চিত্র