Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভিড়ের সুযোগে হাতসাফাই, ভক্ত সেজে তিলক কেটে ভিড়ে মিশেছিল ধৃত নেপাল গ্যাংয়ের দু’জন সহ চার

ভগবানের দুয়ারে ভক্ত সেজে একেবারে ফিল্মি কায়দায় নিখুঁত অপারেশন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভিড়ের সুযোগে হাতসাফাই, ভক্ত সেজে তিলক কেটে ভিড়ে মিশেছিল ধৃত নেপাল গ্যাংয়ের দু’জন সহ চার
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভগবানের দুয়ারে ভক্ত সেজে একেবারে ফিল্মি কায়দায় নিখুঁত অপারেশন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। তারাপীঠে পুলিসের হাতে ধরা পড়ল ‘নেপাল গ্যাং’-এর মূল পান্ডা সহ চারজন ছিনতাইবাজ। শুক্রবার রাতে তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার ধৃতদের রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিচারক ধৃতদের পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। 

Advertisement

প্রতিবছর তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ ভক্ত ভিড় জমান। সেই ভিড়ের সুযোগে হাতসাফাই করতে এই জেলার পাশাপাশি ভিন রাজ্যের চোর, ছিনতাইবাজদের ঠিকানা হয়ে ওঠে তারাপীঠ। এর আগে কৌশিকী অমাবস্যায় সক্রিয় হয়েছিল ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের মহিলারা। ভগবানের দুয়ারে ভক্ত সেজে একেবারে ফিল্মি কায়দায় নিখুঁত অপারেশন করেছিল তারা। ২০২৩ সালে কৌশিকী অমাবস্যার সময় ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের ২৩ জন মহিলা সদস্যকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। পরে লালবাজার থেকে পুলিস এসে তাদের নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ধৃত ১৬ জন লালবাজারের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল। এবারও কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠকে তারা টার্গেট করতে পারে এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা তারাপীঠকে। পর্যটকের ভিড়ে মাঝে সাদা পোশাকের পুলিস ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতেই সাফল্য মিলেছে। গতবারের থেকে তিনগুণ কম অভিযোগ জমা পড়েছে বলে পুলিসের দাবি। এবার ৩৫টির মতো হার ছিনতাই, মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ জমা পড়েছে। 
তবে তারাপীঠে নেপাল গ্যাংয়ের হানা এবারই প্রথম বলে পুলিসের দাবি। ভক্ত সেজে তারাপীঠে হাজির হয়েছিল তারা। ভিড়ের মাঝে পুণ্যার্থীদের গলা থেকে হার ছিনতাইয়ের পাশাপাশি পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করে নেয় তারা। শুক্রবার তারাপীঠ থানায় এরকম বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। পুলিস সোর্স লাগিয়ে জানতে পারে, এই নিখুঁত অপারেশন স্থানীয় দুষ্কৃতীদের কাজ নয়। তারা ময়দানে নেমে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল বিজয় রায়, উপেন্দ্রকুমার রায়, সুরেশ পাশোয়ান ও শান্তনু তোলে। এর মধ্যে প্রথমজনের বাড়ি নেপালের সাবেতে, পরের জন নেপালের লক্ষ্মীপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। সুরেশের বাড়ি বিহারের বেতিয়া জেলায়। হুগলির বাসিন্দা শান্তনু ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের সদস্য। পুলিস জানিয়েছে, এরা মাথায় তিলক কেটে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অপারেশন চালায়। 
ঠিক কোন কায়দায় চুরি? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিআইপি রাস্তা, শ্মশানের অভিমুখ ও পিছনের দিকে মন্দিরের বাইরে ভক্তদের লম্বা লাইনে তারাও ছিল। হঠাৎই অকারণে তারা লাইনে হুড়োহুড়ি শুরু করে। কখনও নিজেদের মধ্যে বচসা। হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন ভক্ত মাটিতে পড়েও যান। সেই ফাঁকেই তারা সোনার হার ছিনতাই করে ভিড়ে মিশে যায়। অন্যদিকে তারাপীঠের রাস্তায় পুণ্যার্থীদের এতটাই ভিড় ছিল যে প্রায় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সেই সুযোগেই হাত সাফাই করেছে গ্যাংয়ের সদস্যরা। পুলিস বেশ কয়েকটি মানি ব্যাগ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়েও দিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, নেপাল গ্যাং এবারই প্রথম তারাপীঠে। পুলিস তৎপর থাকায় তাদের ধরা গিয়েছে। ধৃতদের জেরা করে গ্যাংয়ের বাকি সদস্য ও ছিনতাই হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ