নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে লালফিতের ফাঁস শেষ করার লক্ষ্যে আজ, সোমবার কোলাঘাটে ৫০০ জন উদ্যোগপতিকে নিয়ে শুরু হচ্ছে সিনার্জি। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্পে নানা সমস্যা সমাধান এবং নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে সিনার্জির আয়োজন। কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে, ‘সিনার্জি অ্যান্ড বিজনেস ফেসিলিটেশন কনক্লেভ’। অনুষ্ঠানে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ পাণ্ডে প্রমুখ থাকবেন। এছাড়াও রাজ্যের ১৪টি দপ্তরের তিন জেলার অফিসার সিনার্জিতে উপস্থিত থাকবেন।
জমি থেকে সুইড, দূষণনিয়ন্ত্রণ থেকে দমকল, বিভিন্ন ক্ষেত্রে লালফিতের ফাঁসে অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প আটকে যায়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাও তার বাইরে নয়। দমকলের ছাড়পত্র না পেয়ে বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট আটকে আছে। সুইড থেকে অনুমতির অভাবেও কয়েকটি জায়গায় সমস্যা হয়েছিল। তিনদিন আগে অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এনিয়ে মিটিং হয়। সুইডের সমস্যা সমাধানে একটি স্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। তবে, দমকলের বিষয়টি রাজ্য থেকে অনুমোদন লাগে। সেজন্য সিনার্জিতে ওই সমস্যা সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সকাল ১১টায় কোলাঘাটে বলাকা মঞ্চে সিনার্জি শুরু হবে। রাজ্য সরকারের ১৪টি দপ্তরের নিজস্ব স্টল থাকবে। সেখানে অফিসার ও কর্মীরা থাকবেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ৩০০, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ১৫০ এবং ঝাড়গ্রাম থেকে আরও ৫০জন উদ্যোগপতি অংশ নেবেন। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদপ্তরের অধীন সবকটি সংস্থা, ভূমি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, দমকল, স্যুইড, ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ, হ্যান্ডলুম সহ মোট ১৪টি দপ্তর থেকে প্রায় ৩০০জন অফিসার থাকবেন। যেসব বাধার জন্য বিনিয়োগ ঝুলে রয়েছে তা এই সিনার্জি থেকেই সমাধানের ব্যবস্থা হবে।
কোলাঘাটের ওই কর্মসূচি থেকে বেশ কয়েকজনের হাতে নতুন প্রজেক্টের এনওসি তুলে দেওয়া হবে। সেই তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম ১৪জনের হাতে কাজ শুরুর ছাড়পত্র তুলে দেওয়া হবে। বেশ কয়েকজনের হাতে ব্যাঙ্কের অনুমোদন লেটারও দেওয়া হবে। এছাড়া, অন্যান্য দপ্তর থেকেও পরিষেবা প্রদান করা হবে। এই সিনার্জিতে চেম্বার অব কমার্স, স্বর্ণশিল্পী, হোটেল মালিক, মৎস্যজীবী, কাজু ব্যবসায়ী থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে হাতের কাজের শিল্পীদেরও ডাকা হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্পে প্রতি মাসে গড়ে ১০-১২কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। আগামী তিন বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় চার হাজার পাঁচশো কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তারমধ্যে হোটেল শিল্পে দু’হাজার কোটি, মৎস্য শিল্পে দেড় হাজার এবং অন্যান্য সেক্টরে আরও এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা নিয়েও সিনার্জিতে আলোচনা হবে।
জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দাস বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সিনার্জিতে আলোচনা হবে। অনেক উদ্যোগপতি, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। ক্ষুদ্রশিল্পে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।