রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: রবীন্দ্র জয়ন্তীতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ মাত্র ছ’জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। তিন সপ্তাহ অপেক্ষার পর হতে চলেছে সেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সোমবার ১ জুন রাজভবনে ১০ থেকে ১২ জন বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন। মাত্র ছ’জনকে নিয়ে গড়া মন্ত্রিসভা আম জনতা থেকে প্রশাসনের অফিসার-কর্মী মহল—সর্বত্র প্রশ্নের ঝড় তুলেছিল। সবার একটাই জিজ্ঞাস্য, বাকি মন্ত্রীরা কবে শপথ নেবেন? আগামী সোমবারই তার অবসান হতে চলেছে।
আদি-নব্য মিলিয়ে শুভেন্দুর বর্ধিত মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হচ্ছে একঝাঁক পদ্ম বিধায়কের। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম, রাসবিহারীর এমএলএ স্বপন দাশগুপ্ত। পার্টির মধ্যে জোর আলোচনা, তাঁকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে আনা হতে পারে। তাঁকে সহায়তা করতে শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষকে ডেপুটি করা হতে পারে। কিংবা উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা দপ্তর ভেঙে দিয়ে এই দু’জনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বিজেপির অন্যতম ভরসার মুখ ফালাকাটার দীপক বর্মন পূর্ণ মন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে। তাঁকে বড়ো কোনো দপ্তর দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ পূর্ত কিংবা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন। দু’বারের এই বিজেপি বিধায়ক ২০১৮ সালে সিপিএম ছেড়ে গেরুয়া পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। বাম মন্ত্রিসভায় পঞ্চায়েত দপ্তর সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে, ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট রাজ্যের সেচমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ তাঁর তত্ত্বাবধানে করাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইভাবে বীরভূমের জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। এই জেলার সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে পরিবহণ দপ্তরের হাল ফেরানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। স্বাস্থ্যদপ্তরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতেই রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইন্দ্রনীল খাঁ ও শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে এই দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী এবং আয়ূষ দপ্তরের মাথায় বসানো হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পাওয়ার অন্যতম দাবিদার মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়। তবে তাপসবাবু নিজে কলকাতার মেয়র হতে বেশি আগ্রহী। তাঁকে কিছুদিনের জন্য মন্ত্রীর চেয়ারে দেখা যেতেও পারে। একইভাবে সংস্কৃতি জগৎ থেকে আসা রুদ্রনীল ঘোষ ও পাপিয়া অধিকারী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। বেহালার আর এক বিধায়ক শংকর শিকদারের নাম থাকতে পারে মন্ত্রীর তালিকায়।