Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হিন্দু-মুসলিম ভাগ না করার আর্জি শুভেন্দুর, হুমায়ুনকে কড়া নিশানা

রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রচারে এসে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার শক্তিপুরে দলীয় প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে শুভেন্দু প্রথমে রোড শো ও পরে জনসভা করেন।

হিন্দু-মুসলিম ভাগ না করার আর্জি শুভেন্দুর, হুমায়ুনকে কড়া নিশানা
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, শক্তিপুর: রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রচারে এসে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার শক্তিপুরে দলীয় প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে শুভেন্দু প্রথমে রোড শো ও পরে জনসভা করেন। জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, হিন্দু-মুসলিম ভাগাভাগি করবেন না। রেজিনগরে সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগুরু। প্রসঙ্গত, রেজিনগরে ২৮ শতাংশ হিন্দু ভোট ও বাকিটা মুসলিম। কাজেই এ কথা স্পষ্ট যে, মুসলিম ভোট নিজেদের অনুকূলে টানতে না পারলে বিজেপির পক্ষে জেতা সম্ভব নয়। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন সম্প্রীতির বার্তা বলে মত রাজনৈতিক মহলের। 

Advertisement

জনসভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের ঋণে আবদ্ধ করুন। ৭০-৩০ শতাংশের গল্প শোনাবেন না। হিন্দু-মুসলিম করবেন না।’ এমন পরামর্শ দিয়ে শুভেন্দু বিজেপিকে জেতানোর আহ্বান জানান। 
বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখানে হুমায়ুন কবীর। তিনি হুমায়ুনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি দুই তৃণমূলকেও রেয়াত করেননি। তিনি বলেন, ‘আগের শাসকদলের কোনো নাম ও নিশান নেই। এখন দু’টি দল তৈরি হয়েছে। কে আসল, কে নকল? মমতা এআইটিসি তো গোরুর গাড়ির হেডলাইট। আর একটা ডেমোক্রেটিক টিএমসি, যাঁদের কোনো চিহ্ন নেই রাজ্যে। ভোটে জেতার পর বলেছিলাম, তৃণমূলের নাম ও নিশান থাকবে না। ১৫০ দিনে জোড়াফুল নেই, তৃণমূলও নেই।’
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এদিন প্রচারে এসে শুভেন্দু হুমায়ুনকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘এই লোককে ভোট দেবেন! হিন্দু মুসলিম করে আগেরবার রাজনীতি করেছেন। যাঁরা মানুষের মৃত্যু কামনা করে তাঁদের পতন অনিবার্য। কেউ আটকাতে পারবেন না।’
হুমায়ুনের এই মন্তব্যে বেশ অবাক হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তাঁর কথায়, ‘রাজনীতির লড়াই ময়দানে হয় এবং হবেও। বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে, এক জন জিতবে, অন্য জন হারবে। আর এখানে হুমায়ুন সাহেব বলছেন, ‘আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি, অজিত পওয়ারের মতো এখানকার মুখ্যমন্ত্রী তাড়াতাড়ি উপরওয়ালার কাছে চলে যান!’ শত্রু হলেও মুখে এই ভাষা আনি না।’ এরপরেই শুভেন্দু বলেন, ‘বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার।’
এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। হুমায়ুনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে আপনি ছুরি মেরেছেন। আপনি বিজেপির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। শেষ আশ্রয়স্থল ছিল তৃণমূল। আপনিও বিভাজনের রাজনীতি করে ধর্মীয়স্থানকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছেন। নওদা থেকে বিধানসভায় গিয়েছেন হুমায়ুন সাহেব। এই ৫ মাসে নওদার লোককে কী দিয়েছেন? একটা ইটও গাঁথতে পারেননি। আগামী ৫৫ মাসেও পারবেন না।’ রেজিনগরের ভোটারদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, ‘উন্নয়নের কাজে আমরা রাজনীতি করি না। সংকীর্নতা করি না।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ