Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

থমথমে রিষড়ার বাড়ি, শতদ্রুর পুত্রকে ফুটবলার তৈরির স্বপ্ন ধাক্কা খাবে না তো! আশঙ্কা ঘনিষ্ঠদের

যুবভারতীতে মেসি-বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। তারপরেও রিষড়াতে বাঙুর পার্কের লেনিন মাঠের পাশে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের বাড়ির পরিবেশ থমথমে।

থমথমে রিষড়ার বাড়ি, শতদ্রুর পুত্রকে ফুটবলার  তৈরির স্বপ্ন ধাক্কা খাবে না তো! আশঙ্কা ঘনিষ্ঠদের
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: যুবভারতীতে মেসি-বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। তারপরেও রিষড়াতে বাঙুর পার্কের লেনিন মাঠের পাশে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের বাড়ির পরিবেশ থমথমে। এই বাড়িতেই পরিবার নিয়ে থাকেন শতদ্রু। আপাতত তিনি পুলিশ হেফাজতে। জানা গিয়েছে, শতদ্রুর স্ত্রী এবং তাঁর ছেলে গতকালের ঘটনার পরে মুম্বইয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। বর্তমানে এই বাড়িতে রয়েছেন শতদ্রুর বাবা এবং মা। রবিবারও গোটা বাড়ি পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। যদিও সেখানে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের খবর, নিজের ছেলেকে ফুটবলার তৈরি করতে চান শতদ্রু। তাই বাড়িতে রীতিমতো রয়েছে প্র্যাকটিস মাঠ। পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক মেকআপ আর্টিস্ট মৌসুমি দাস বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক। দাদা (শতদ্রু) এই অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলার জন্য তিনবছর ধরে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কলকাতায় সেটা হল না এবং যা হয়েছে সেটা আরও দুর্ভাগ্যজনক। দাদা ছেলেকে ফুটবলার তৈরি করতে চান। এই ঘটনায় সেটাও যদি ধাক্কা খায়, তা হবে আরও দুঃখজনক। 
এই পাড়াতেই থাকেন প্রাক্তন ফুটবলার শতদ্রুর প্রতিবেশী সমীর চৌধুরী। তাঁকে একবার ব্রাজিলে নিয়ে গিয়েছিলেন শতদ্রু। তিনি বলেন, ‘ও আগেও অনেক ফুটবলারদের এনেছে। সেখানেও ভালো ব্যবস্থা ছিল। এমন ঘটনা কোনওদিন ঘটেনি। তবে এটা সত্যি যে গতকাল মেসিকে দেখার ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়েছিল। তবে ফুটবলের আধুনিক ভগবান যে মাঠে নিশ্বাস নিয়েছেন, আমরাও সে মাঠে নিশ্বাস নিতে পেরেছি। এটাও আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।’ এই অঞ্চলের অন্য এক মেসি ভক্ত সৌরীশা চৌধুরী। তিনিও লিওকে ভালো করে দেখতে না পেরে অসন্তুষ্ট। তাঁর কথায়, ‘আমরা গতকাল গিয়েছিলাম। কিন্তু মেসিকে দেখতে না-পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। হায়দরাবাদ যেভাবে গুছিয়ে পরিকল্পনা করেছিল, আমাদের এখানেও তেমন পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি।’ যদিও শতদ্রুর পরিবারের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, শনিবার যখন মেসি কলকাতায় এসেছেন, তার কাছাকাছি সময়ে বা তার কিছু পরেই শতদ্রুর ছেলে এবং স্ত্রী মুম্বইয়ের বাড়িতে চলে যান। এখানে বাড়িতে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা। রবিবারও তাঁদের বাড়ির সামনে রয়েছে পুলিশ পিকেট। শনিবার থানাতেও প্রচুর পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছিল। রবিবার সেটা কিছুটা কম। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারি চালাচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। থানাও সতর্ক। তবে সরকারিভাবে পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি।  শতদ্রু দত্তর বাড়ি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ