Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিএমের নির্দেশে পোড়াঝাড়ে সার্ভে টিম, সদস্যরা কথা শুনছেন না বলে অভিযোগ

দুর্যোগ বিধ্বস্ত পোড়াঝাড়ে ক্ষতিপূরণের সরকারি তালিকা তৈরির প্রথম দিনেই ক্ষোভ বাসিন্দাদের

ডিএমের নির্দেশে পোড়াঝাড়ে সার্ভে টিম, সদস্যরা কথা শুনছেন না বলে অভিযোগ
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: দুর্যোগ বিধ্বস্ত পোড়াঝাড়ে ক্ষতিপূরণের সরকারি তালিকা তৈরির প্রথম দিনেই ক্ষোভ বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, জেলাশাসকের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরকারি কর্মীদের কাজে কোনও মিল নেই। বাড়িতে ঢুকে নাম জিজ্ঞেস করেই বেরিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আবার সব ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে যাচ্ছেনও না। এতে বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ক্ষতিপূরণের সরকারি তালিকায় প্রকৃত  ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হবেন। 

Advertisement

গত বুধবার পোড়াঝাড় এলাকা পরিদর্শন করেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন। তাঁকে সামনে পেয়ে বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যা, ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান। অনেকের বাড়ি ভেঙেছে। আসবাবপত্র, বিছানা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গবাদিপশু সহ অনেক কিছুই ভেসে গিয়েছে। নথিপত্রও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সব শোনার পর ডিএম ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দেন, বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি কর্মীদের ১০টি দল এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখবে কার কী ক্ষতি হয়েছে। সব শুনে তালিকা তৈরি করা হবে। সেই মতোই সকলের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। বাড়ি ভাঙলে তা করে দেওয়া হবে। 
এদিন এলাকার বাসিন্দা তারাচাঁদ রায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জেলাশাসকের ঘোষণার সঙ্গে এদিন সরকারি কর্মীদের কাজের কোনও মিল ছিল না। ডিএমের কথায় আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামত, গবাদিপশু, আসবাবপত্র অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারানো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যাপারে। কিন্তু এদিন দেখা গেল সরকারি কর্মীরা সকলের বাড়ি যাচ্ছেন না। আমি জোর করে আমার বাড়িতে টেনে নিয়ে গিয়ে কী কী ক্ষতি হয়েছে দেখাতে চাইলেও তাঁরা দেখতে চাননি। 
একই অভিযোগ করেছেন এলাকার বহু বাসিন্দা। মালতি বর্মন বলেন, বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেছেন জেলাশাসক। কিন্তু এদিন সরকারি কর্মীরা এসে শুধু বাড়ির মালিকের নাম জিজ্ঞেস করেছেন। চারদিকে  চোখ ঘুরিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। কার কী ক্ষতি হয়েছে শুনতে চাননি। জমির কাগজপত্র আছে কি না তারও খোঁজখবর করেননি। 
এলাকার প্রচুর মানুষ টোটো চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু মহানন্দার জলে টোটো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ব্যাটারি ও ইঞ্জিনে জল ঢুকেছে। প্রণব রায় বলেন, মেকানিক সব দেখে জানিয়েছে, ব্যাটারি পাল্টাতে হবে। ইঞ্জিন নতুন করে বানাতে হবে। এত খরচ কোথা থেকে পাব জানি না। অথচ এদিন সরকারি কর্মীরা এসব ক্ষয়ক্ষতির কোনও খোঁজখবরই নেননি। টোটো চালিয়ে আমার মতো এলাকার আরও ৫০ জন মানুষ সংসার চালায়। রিপোর্টে উল্লেখ না থাকলে আমরা এর ক্ষতিপূরণও পাব না। সেক্ষেত্রে ফের টোটো নিয়ে রাস্তায় নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। 
যদিও সার্ভে দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ মতোই তাঁরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছেন। প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে মোবাইলে ছবি তুলছেন।  ত্রাণ শিবিরে খাবারের জন্য লাইন। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ