Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

প্রপত্তি

প্রপত্তির অনুকূলের সঙ্কল্প কি এই রকম। এতদিন ধরে আমার সাধন-ভজনের উপর নির্ভর করে আমি তো কিছু করতে পারলাম না, শান্তি এল না, ভয় গেল না!

প্রপত্তি
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রপত্তির অনুকূলের সঙ্কল্পাদি, প্রতিকূলতা—যারা প্রপত্তির প্রতিকূল তাহাদের বর্জ্জন, বিশ্বাস—তুমি আমায় নিশ্চয় রক্ষা করবে, রক্ষা করা তোমার স্বভাব—এইরূপ দৃঢ় বিশ্বাস, বরণ—শ্রীভগবান্‌কে রক্ষয়িতরূপে আশ্রয় করা, ন্যাস—শ্রীভগবানের পদে সম্পূর্ণভাবে আত্মভাবের নিক্ষেপ, কার্পণ্য—অকিঞ্চনতা—এই ছয়টি গুণ যে ভক্তে আছে, সে-ই তোমার শ্রেষ্ঠ ভক্ত।

Advertisement

প্রপত্তির অনুকূলের সঙ্কল্প কি এই রকম। এতদিন ধরে আমার সাধন-ভজনের উপর নির্ভর করে আমি তো কিছু করতে পারলাম না, শান্তি এল না, ভয় গেল না! এবার সব ত্যাগ করে আমি তোমারই শরণাপন্ন হবো—তোমাকে রক্ষকরূপে আশ্রয় কর্‌বো, তোমার চরণে আত্মদান কর্‌বো—তোমাকেই একমাত্র আমার রক্ষাকর্ত্তা বলে বিশ্বাস কর্‌বো, আমি অকিঞ্চন হয়ে যাবো—ভিতরে-বাইরে অকিঞ্চন হবো, লীলাগ্রন্থাদি পাঠ ধ্যান করবো। অপ্রতিকূলতা—তোমার শরণাগতের বাধা হ’ল অহঙ্কার, আপনার ক্ষুদ্রশক্তির উপর বিশ্বাস অভিমান দম্ভ মদ—এ সব ত্যাগ কর্‌বো কেমন?
বিশ্বাস—তুমি আমায় নিশ্চয় রক্ষা কর্‌বে; রক্ষা করা তোমার স্বভাব—সত্যই তুমি সততই রক্ষা করছ। যখন যে ভক্ত বিপন্ন হয়ে তোমায় ডেকেছেন, তখনই তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছো। কুরুসভায় যখন একবস্ত্রা দ্রৌপদীকে দুষ্ট দুঃশাসন আনয়ন করে উলঙ্গ করবার জন্য বস্ত্র আকর্ষণ করতে থাকে, তখন তিনি কাতরকণ্ঠে ‘কোথা দ্বারকানাথ’ ‘কোথা যদুনাথ’ ‘কোথা প্রাণনাথ’ বলে তোমায় ডেকেছিলেন—তুমি স্থির থাক্‌তে পারনি; বস্ত্ররূপে এসে তাঁকে রক্ষা করেছিলে। যেদিন দ্রৌপদীর ভোজনান্তে দশ সহস্র শিষ্য সহ দুর্ব্বাসা মুনি পাণ্ডবগণের অতিথি হন—পাঞ্চালী ও পাণ্ডবগণের করুণ আহ্বানে স্থির থাক্‌তে না পেরে তথায় উপস্থিত হয়ে স্থালীলগ্ন শাক-অন্ন মাত্র ভোজন করে তাঁদের ঋষি ভয় দূর করেছিলে। যাঁরা তোমার শরণ গ্রহণ করেন, তাঁদের তুমি পদে পদে রক্ষা কর।
গ্রাহগ্রস্ত গজেন্দ্র তোমায় কাতর হয়ে আহ্বান করেছিলো, তুমি শীঘ্র তার নিকটস্থ হয়ে গ্রাহ হতে মুক্ত করেছিলে। অশ্বত্থামা যখন অপাণ্ডব করবার জন্য ব্রহ্মাস্ত্র ত্যাগ করেন, তখন তুমি পাণ্ডবগণকে এবং উত্তরার গর্ভস্থিত পাণ্ডব-বংশধর পরীক্ষিৎকে রক্ষা করেছিলে। একান্ত ভক্ত প্রহ্লাদকে অস্ত্রে, জলে, অগ্নিতে, হস্তিপদতলে, আশীবিষের দংশনে, পর্ব্বত হতে ভূমিতলে পাতনসময়ে এবং বিষান্ন ভোজনকালে রক্ষা করেছিলে। আহা! রক্ষা করাই যে তোমার স্বভাব। যে ‘আমি তোমার হলাম’ বলে আশ্রয় নেয়, তাকে তুমি বক্ষে করে রক্ষা কর। তোমার সুদর্শন চক্র ভক্তগণকে সর্ব্বদা রক্ষা করছে। যখন দুর্ব্বাসা মুনি তোমার একান্ত ভক্ত অম্বরীষ রাজাকে ধ্বংস করবার জন্য জটাজাল হতে কৃত্যা নির্ম্মাণ করেন, তখন তোমার সুদর্শন চক্রের দ্বারা একান্ত ভক্ত রাজা অম্বরীষকে তুমি রক্ষা করেছিলে। বিমাতার বাক্যবাণে বিদ্ধ-হৃদয় বালক ধ্রুব যখন তোমায় একান্তভাবে ডেকেছিল, তখন তুমি স্থির থাকতে পারনি; গরুড়ারোহণে তার নিকট গিয়ে তাকে বাঞ্ছিত বর দান করেছিলে।
শ্রীগুরুপ্রকাশন প্রকাশিত ‘শ্রী ওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (১৪ খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ