নয়াদিল্লি: ইরাবতী নদীর উদ্বৃত্ত জল আর পাবে না পাকিস্তান। শাহবাজ শরিফ প্রশাসনকে উচিত শিক্ষা দিতে এমনই পদক্ষেপ করছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের সীমান্তে তৈরি হচ্ছে শাহপুর কান্দি বাঁধ। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এপ্রসঙ্গে সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা বলেন, ‘৩১ মার্চের মধ্যে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানকে দেওয়া যাবে না। এটা বন্ধ করতেই হবে।’ মাধোপুর দিয়ে পাকিস্তানে প্রবাহিত হয় ইরাবতীর উদ্বৃত্ত জল। বাঁধটি কার্যকর হলে তা কাঠুয়া এবং সাম্বার খরাগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তাজ মোহিদিন জানিয়েছেন, এই বাঁধটি সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় পড়ে না।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। এর পরেই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত সরকার। এবার প্রতিবেশী শত্রুরাষ্ট্রকে শায়েস্তা করতে আরও একটি মোক্ষম চাল দিল নয়াদিল্লি। কাশ্মীরের জলসম্পদমন্ত্রী রানা আরও জানান, বাঁধের সাহায্যে ইরাবতীর জলের অপচয় বন্ধ করা যাবে। সেই ১৯৭৯ সালে শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্র। ১৯৮২ সালে প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সরকারের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে কাজ থমকে ছিল। অবশেষে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এবিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুই রাজ্যের সরকার। কয়েক মাস পরেই কাজ শুরুর ছাড়পত্র দেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রকল্পের খরচ ধরা হয় ২ হাজার ৭১৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। সূত্রের খবর, এই বাঁধের মাধ্যমে পাঞ্জাবের ৫ হাজার হেক্টর ও জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া, সাম্বার ৩২ হাজার ১৭৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় চলে আসবে। একইসঙ্গে প্রকল্পের সাহায্যে ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে পাঞ্জাব সরকার।