Bartaman Logo
২০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ব্যাংককে রাস্তাতেই হল অস্ত্রোপচার, বিপর্যয়ের মাঝে নবজীবনের স্পন্দন

অপারেশন থিয়েটারে সবে শুরু হয়েছিল অস্ত্রোপচার। আচমকা প্রবল কম্পন। ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেয়ে আর সময় নষ্ট করেননি চিকিৎসকেরা।

ব্যাংককে রাস্তাতেই হল অস্ত্রোপচার, বিপর্যয়ের মাঝে নবজীবনের স্পন্দন
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্যাংকক: অপারেশন থিয়েটারে সবে শুরু হয়েছিল অস্ত্রোপচার। আচমকা প্রবল কম্পন। ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেয়ে আর সময় নষ্ট করেননি চিকিৎসকেরা। প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে প্রসূতিকে নিয়েই তড়িঘড়ি নেমে আসেন তাঁরা। এরপর হাসপাতালের বাইরে এনে সম্পন্ন হয় অস্ত্রোপচারের বাকি প্রক্রিয়া। রাস্তাতেই জন্ম হয় ফুটফুটে শিশুর। ব্যাংককের পুলিস জেনারেল হাসপাতালের এই ঘটনা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের বাইরে রাস্তায় অস্ত্রোপচার চলাকালীন ওই মহিলাকে ঘিরে রেখেছেন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা। চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদেরও হাসপাতালে বাইরে আনা হয়েছে। রাস্তার ধারে সার দিয়ে রাখা বেডে তাঁরা শুয়ে রয়েছেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের মুখপাত্র তথা পুলিস আধিকারিক সিরিকুল স্রিসাঙ্গা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, মা ও সদ্যোজাত দুজনেই সুস্থ। 

Advertisement

ব্যাঙ্ককে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের ভেঙে পড়ার ভিডিও ও ছবিও সামনে এসেছে। এই বহুতলেই কাজ করছিলেন খিন আঙ নামে এক শ্রমিক। ৪৩ জন শ্রমিক চাপা পড়লেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। খিন বলেন, তখন দুপুর একটা হবে। আমার শিফ্ট সবে শেষ হয়েছে। জল আনতে বাইরে বেরিয়েছিলাম। আমার ভাইকে দেখলাম তখনও কাজ করছে। সবে রাস্তায় পা দিয়েছি, আচমকাই প্রবল কম্পন। দেখি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে বাড়িটা। পড়িমরি করি দৌড় দিই। কিছুক্ষণের মধ্যে ধুলোর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। সেই ধুলোর ধোঁয়া থিতিয়ে আসার পর ফিরে গিয়ে দেখি আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। চোখের নিমেষে সব শেষ।
ভয়াবহ ভূমিকম্প ও একের পর এক আফটার শকে প্রবল আতঙ্ক ছড়ানোয় শুক্রবার প্রায় ৭০০ মানুষ ব্যাংককের বিভিন্ন পার্কে রাত কাটান। শনিবার ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত বলেন, শহরের পার্কগুলি গতকাল গোটা রাত খোলা রাখা হয়েছিল। সেখানে দুর্গতদের জন্য জলের ট্রাক ও পোর্টেবল টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও উদ্ধারকারী টিম খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করে। নিরাপত্তার জন্য পার্কগুলিতে ছিল পুলিস। পাশাপাশি আতঙ্ক কাটিয়ে তুলতে ছ’টি পার্কে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পর্যটন দপ্তর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ