কাঠমাণ্ডু: ত্রিশূলী নদীর কূল ছাপিয়ে বয়ে যাচ্ছে কাদা-জলের বিধ্বংসী স্রোত। স্রোতের সামনে গাড়ি, দোকান—যা কিছু আসছে, ভেসে যাচ্ছে সব কিছুই। কিন্তু সেই ধ্বংসলীলার মধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে সবুজ রঙের একটি বাড়ি। ওই বাড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে কয়েকজন বাসিন্দা। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, আশপাশের বাকি সবকিছুর মতোই ওই বাড়িটির ধুয়েমুছে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। প্রবল গতির হড়পা বানের সামনেও টিকে গিয়েছে বাড়িটি। নেপালে মৃত্যুমিছিলের মধ্যে নুয়াকোট জেলার ওই বাড়িটি যেন আশার প্রতীক। বিপুল জলরাশির সামনে কীভাবে বেঁচে গেল বাড়িটি, তা নিয়ে চর্চার শেষ নেই। অবশেষে সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বাড়িটির বাসিন্দা প্রকাশ। তাঁর কথায়, ‘যখন আপনার মনে হয়, এটাই হয়তো আপনার জীবনের শেষ মুহূর্ত, তখন আপনি কী আর ভাবতে পারেন? মনে হচ্ছিল, হয়তো আমাদের জীবন শেষ হতে চলেছে।’
প্রকাশ জানান, তিনি সেদিন কাছের দোকানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন অন্য পাঁচ সদস্য। হঠাত্ খবর পান ত্রিশূলী নদীতে বান আসছে। কোনোমতে দৌড়ে বাড়িতে যান প্রকাশ। সকলকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে আশপাশ ভেসে গিয়েছে। সকলে চারতলায় উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জল চারতলাও প্রায় ছুঁয়ে ফেলে। প্রকাশ জানান, সেই সময় তাঁর এক ছেলে স্কুলে ছিল। ছেলে কেমন রয়েছে, সেই চিন্তাই মাথায় ঘুরছিল তাঁর। বিধ্বংসী বানেও কীভাবে বেঁচে গেল বাড়িটি? প্রকাশ জানান, তাঁদের বাড়িটি প্রায় ৪০ বছরের পুরানো। নদীর ধারে হওয়ার কারণে শক্তপোক্তভাবে ভিত তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া সেই সময় সিমেন্ট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর মানও ভালো ছিল বলে মত প্রকাশের। তবে টিকে গেলেও বাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নীচের তলাটি গুদামঘর হিসাবে ব্যবহার করতেন। সেই সবই ভেসে গিয়েছে। ভাইরাল সবুজ বাড়ি। ছবি: সমাজমাধ্যম