নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: অসাধারণ সাফল্য নদীয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের। একসঙ্গে দু’টি একটোপিক প্রেগন্যান্সির অস্ত্রোপচার করে নজির গড়ল হাসপাতাল। চিকিৎসক মহলের মতে, এমনিতেই এই ধরনের শারীরিক জটিলতা বিরল। তার উপর একই দিনে দুজন রোগীর অস্ত্রোপচার যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এক্টোপিক প্রেগনেন্সি নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে একজন রিয়া হালদার। তিনি শান্তিপুরের বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপরজন, রামকৃষ্ণ কলোনির বাসিন্দা পাপিয়া সাহা। দু’জনেরই কারওরই প্রথমবার গর্ভাবস্থা নয়। তবে দুজনই বিরল শারীরিক সমস্যার কবলে পড়েন। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের অস্ত্রোপচারে যে কোনও কিছুই ঘটতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যাপ্ত রক্তের জোগান। তাই হাতে পর্যাপ্ত রক্ত থাকা জরুরি। অথচ শান্তিপুর হাসপাতালে এখনও ব্লাড ব্যাংক চালু হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় রক্ত রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করে তবেই তাঁরা অস্ত্রোপচারে হাত দিতে পেরেছিলেন।
এর মধ্যে রিয়া হালদারের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে সঙ্কটজনক। তাঁর ক্ষেত্রে রাপচার্ড একটোপিক ধরা পড়ে। অর্থাৎ ডিম্বনালী ফেটে পেটের ভিতর প্রায় দুই লিটার রক্ত জমাট বেধে যায়। অস্ত্রোপচারের সময়ে সেই জমাট রক্ত বের করে রোগীকে ফের রক্ত দিয়ে স্থিতিশীল করার পর সফলভাবে অপারেশন হয়। অন্য দিকে, পাপিয়ার সমস্যা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তাঁর ক্ষেত্রে ক্রনিক একটোপিক ধরা পড়ে। ডিম্বনালীতে ভ্রূণ এসে খাদ্যনালীর সঙ্গে জড়িয়ে টিউমারের মতো আকৃতি নিয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে পেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। সেই জটিল অপারেশনও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা। সাধারণত ডিম্বাশয়ের পরিবর্তে ডিম্বনালীতে ভ্রুণ বড় হতে শুরু করলে তাকেই বলা হয় একটপিক প্রেগন্যান্সি। এই বিরল জোড়া অস্ত্রোপচার করেছেন হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের সার্জেন চিকিৎসক পবিত্র ব্যাপারী। তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, এমনিতেই একটোপিক প্রেগন্যান্সি জটিল এবং বিরল। তার উপর একই দিনে দুজন রোগীর অস্ত্রোপচার সফলভাবে করা আমাদের হাসপাতালের পক্ষে বিশেষ কৃতিত্বের।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাম্প্রতিক কালে একের পর এক জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত মিলছে। চিকিৎসক মহলের দাবি, সরকারি উদ্যোগ ও পরিকাঠামো আরও উন্নত হলে গ্রামীণ মানুষও জটিল সমস্যার চিকিৎসার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ছুটবেন না। শান্তিপুর হাসপাতালের এই নজির প্রমাণ করল, অভিজ্ঞ হাত ও সঠিক পরিকাঠামো থাকলে সরকারি হাসপাতালই হতে পারে মানুষের ভরসাস্থল।