নয়াদিল্লি: ফাঁসির প্রথা বন্ধ হোক। পরিবর্তে প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর শিরায় প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মতো কোনো অপেক্ষাকৃত ‘কম যন্ত্রণাদায়ক’ সাজা কার্যকরের পদ্ধতি চালু করা হোক। এ সংক্রান্ত একটি আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ফাঁসির বর্তমান প্রথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতেই পারে। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এদিনের রায় বাধা হবে না। আদালত বলেছে, প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা কমানোর অন্য বিকল্প পদ্ধতি ভালোভাবে কাজ করে কি না, তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
প্রাণদণ্ডের স্বীকৃত প্রথা হিসাবে ফাঁসি বন্ধের আরজি জানিয়ে ২০১৭ সালে একটি আবেদন পেশ করেছিলেন প্রবীণ আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা। ফাঁসির পরিবর্ত হিসাবে শিরায় প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, গুলিচালনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা বা গ্যাস চেম্বারের মতো অপেক্ষাকৃত ‘কম যন্ত্রণাদায়ক’ প্রথা চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। মালহোত্রার বক্তব্য ছিল, প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে অন্তত একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। সে ফাঁসি চাইছে না প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মতো অন্য কোনো পন্থা। ২০২৩ সালের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, ফাঁসি কার্যকর করা কম যন্ত্রণাদায়ক কি না, তা খতিয়ে দেখতে আদালত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। প্রাণদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কে কেন্দ্রের কাছে ‘উন্নততর তথ্য’ চেয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তবে একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল, প্রাণদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইন বিভাগকে কোনো নির্দেশ আদালত দেবে না। এর আগে ২০১৮ সালে কেন্দ্র ফাঁসি প্রদানের আইনি বিধির পক্ষেই জোরালো সওয়াল করেছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন বা গুলিচালনার মতো পদ্ধতি মোটেও কম যন্ত্রণাদায়ক নয়।